নির্বাচন শেষ হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় বসতেই ফের বাংলাদেশে চাঞ্চল্য । অশান্তির মেঘ যেন কিছুতেই কাটছে না। তার উপর জড়িয়ে গিয়েছে ভারতে। সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় হিন্দু পুলিশ অফিসার এসআই সন্তোষ দাস হত্যার অভিযুক্ত আহমেদ রেজা হাসান মাহদি (ওরফে মাহদি হাসান) ভারতে প্রবেশ করেছে । সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সে নয়াদিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার ‘ধাকিয়া’ রেস্তোরাঁয় ছিল।
আরও পড়ুনঃ রেশনের সামগ্রী না পেয়ে ক্ষোভ, পথ অবরোধে উত্তাল মানবাজারের কেন্দা
এছাড়া পর্তুগাল দূতাবাসের ভিতরে তার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সূত্রের খবর, মাহদি পাকিস্তানি একটা জঙ্গি সংগঠনের হয়ে ভারতে কোনো টেরর প্লট চালানোর পরিকল্পনা করছে। পর্তুগিজ ভিসা পেলেই সে অপরাধ চালিয়ে চুপিচুপি পর্তুগালে পালিয়ে যাবে।মাহদি হাসান ‘স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন’ (এসএডি)-এর হবিগঞ্জ জেলা ইউনিটের নেতা। ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জে পুলিশ অফিসার সন্তোষ দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছিল।
জানুয়ারি ২০২৬-এ একটা ভাইরাল ভিডিওতে সে ক্যামেরার সামনে গর্ব করে বলে, “আমরা সেই হিন্দু পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে মেরেছি।” এরপর বাংলাদেশ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কিন্তু হত্যার অভিযোগে চার্জশিট না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এখন সে ভারতে এসে লুকিয়ে আছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো পোস্টে বলা হচ্ছে, মাহদি ফেক ভিসা বা অন্য কোনো উপায়ে ভারতে ঢুকেছে। তার পাসপোর্ট ও জন্ম সার্টিফিকেটের ছবি শেয়ার করা হয়েছে।
কাউন্টারটেররিজম বিশেষজ্ঞ সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী একটা পোস্টে লিখেছেন, “এই সেলফ-কনফেসড খুনি ভারতে আছে। পাকিস্তানি টেরর গ্রুপের হয়ে প্লট চালাতে এসেছে। পর্তুগাল ভিসা পেলেই অপরাধ করে পালাবে। এনআইএ, দিল্লি পুলিশকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” তার পোস্টে হাজারো লাইক, রিপোস্ট এবং শেয়ার হয়েছে। অন্যান্য অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবি উঠেছে মাহদি পাহাড়গঞ্জে লুকিয়ে আছে, পর্তুগিজ দূতাবাসে ভিসার জন্য চেষ্টা করছে।এই খবরে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় চমক! বিজেপিতে বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে কস্তুরী; আরও ভাঙছে RSP
এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি), দিল্লি পুলিশ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মাহদি-র মতো অভিযুক্তদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া হলে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে। কেউ কেউ বলছেন, এটা ‘জিহাদি কুপ’-এর পরবর্তী পর্যায় অভিযুক্তরা পালিয়ে অন্য দেশে লুকোচ্ছে এবং নতুন প্লট করছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা স্পর্শকাতর। নতুন সরকারের আমলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে, কিন্তু জঙ্গি ও অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা জরুরি। সূত্র বলছে, মাহদির অবস্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে। যদি সে সত্যিই পাকিস্তানি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে এটা বড় নিরাপত্তা হুমকি। দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকা পর্যটক ও বিদেশিদের ভিড়ে ভরা, সেখানে লুকিয়ে থাকা সহজ।









