এআই যে আমাদের জীবনে ‘ত্রাতা’ হয়ে উঠছে, তার বাস্তব উদাহরণ দেখা গেল অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে। শত্রুর গতিবিধির উপর নজর রাখতে ভারতীয় সেনা বেছে নিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে। এলএসি-তে চিনের সেনাদের আনাগোনা বুঝতে পেরে তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করতে সক্ষম হয় ভারত। একেবারে দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো কম খরচের এআই সিস্টেম এই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে জানালেন স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ডের প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঝলসে গেল ৪ শিশু
ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা জানান, অরুণাচল প্রদেশের এলএসি (বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা) বরাবর চীনা বাহিনীর গতিবিধি ভারত আগেই টের পেয়েছিল। তিনি বলেন, কর্পস কমান্ডার পদে থাকাকালীন সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা একটি দেশীয় এআই সিস্টেম চিনের সেনা উপস্থিতির প্রাথমিক সংকেত ধরেছিল।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল দীনেশ সিং রানা সেই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। জানান, “আমরা এআই সিস্টেমের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছিলাম, কিছু না কিছু তৈরি হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের পদক্ষেপের সময়ও আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।” সময়মতো সতর্কতা এবং প্রস্তুতির ফলে ভারতীয় বাহিনী সঠিকভাবে সেনা মোতায়েন, এলাকা খালি করা এবং অন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়। ফলে কোনও রকম হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা মনে করেন, এআই এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়, এটি এখন বৈশ্বিক শক্তি প্রতিযোগিতার মূল উপাদান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন এই ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। বিশ্বজুড়ে চলছে ‘এআই রেস’। শুধু সফটওয়্যার নয়, এআই প্রভাব ফেলছে সামরিক অবকাঠামো, কর্মী গঠন, যুদ্ধনীতি এবং কমান্ড সিস্টেমেও।
বর্তমানে সেনাবাহিনীতে এআই ব্যবহার হচ্ছে–
- কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
- ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র
- সুনির্দিষ্ট হামলা
- লক্ষ্য চিহ্নিতকরণ
- সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের পূর্বাভাস
- নৌসীমা পর্যবেক্ষণ
- সাইবার প্রতিরক্ষা
- ভুয়ো তথ্য রোধে
সাইবার যুদ্ধে এআই একই সঙ্গে আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা- দু’দিকেই শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুনঃ মহাকালের পবিত্র নগরী উজ্জয়িনীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা! ছদ্মবেশে জাফর খান
রানা বলেন, এআই যদি সুপারইনটেলিজেন্স পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে তা আরও বড় সুযোগের সঙ্গে বড় ঝুঁকিও আনতে পারে। এআই একটি দ্বিমুখী প্রযুক্তি- দুর্বৃত্ত গোষ্ঠীও এটা ব্যবহার করতে পারে। তাই এআইকে নিয়ন্ত্রণ করা পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের থেকেও কঠিন হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে কম খরচের, স্কেলেবল এআই ড্রোন ও সরঞ্জামই বেশি জরুরি। তাই ভারতেরও এখনই একটি সমন্বিত এআই নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা উচিত, যাতে অর্থনীতি, সাইবার, মহাকাশ এবং সামরিক দিক- বই একসঙ্গে বিবেচনায় আনা যায়।









