বঙ্গ ভোটের আগে সিপিএম-এর অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল। প্রতীক-উর-রহমানকে নিয়ে শুরু হয়েছে ঝামেলা। শোনা যাচ্ছে, আমতলার সভায় অভিষেকের হাত ধরে তাঁর যোগদান হতে পারে। এমনকী মগরাহাটে প্রার্থী হাওয়া নিয়ে জল্পনা ক্রমেই তীব্র হয়েছিল। তবে সেই জল্পনায় প্রতীক উর নিজেই ঢেলেছেন। সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে প্রতীক উর জানিয়েছেন, মগরাহাটের প্রার্থী পদের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও দাবি তিনি রাখেননি। তিনি শুধু চেয়েছেন সম্মান।
আরও পড়ুনঃ ‘তালাক-তালাক-তালাক’; CPI(M)-কে তিন তালাক দিচ্ছেন Gen Z প্রতীক-উর!
সিপিএম ছাড়ার পর কি তৃণমূলে যোগ দেবেন প্রতীক উর রহমান? জল্পনার মধ্যেই ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলের উচ্চতর নেতৃত্বের উপর। একহাত নিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেও। প্রতীক উরের সাফ কথা, “সিপিএমের কেউ কথা বলা বা কথা শোনার জায়গায় নেই। রাজ্য সম্পাদক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন তাতে কোনও সমস্যা নেই! কিন্তু আমার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে পারছেন না!” এরপরই একরাশ বিরক্তির সঙ্গে বলেন, “হয় কবুল করুন, নয় বলে দিন তালাক তালাক তালাক।” কিন্তু বলবে কে? মুখে কুলুপ এঁটেছেন খোদ সেলিমই। আলিয়া বিশ্ববিদ্য়ালয়ে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সাফ বলে দিলেন তিনি কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। শেষে তো সাংবাদিক্কে কলার খোসাই দেখিয়ে ছাড়লেন।
‘হয় কবুল করুন, নয় তালাক’
প্রসঙ্গত, নিউটাউনের হোটেলে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই দলের অন্দরেই বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন সেলিম। চাপানউতোর চলছে থাকে দলের অনুগামীদের মধ্যেও। এরইমধ্যে রাজ্য সম্পাদকের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাটন ধরতে দেখা যায় শতরূপ ঘোষকে। সাফ বলেন, সিপিএম মিটিং করলেই দোষ। পাল্টা কারও নাম না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বামপন্থীদের নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন প্রতীক উর। এ নিয়ে বিতর্কের জল থিতিয়ে যাওয়ার আগেই আচমকা দল থেকেই অব্যাহতি চেয়ে সেই সেলিমকেই চিঠি প্রতীক উরের। সেখানে তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছি না’। তারপর কার্যত ঝড় বয়ে গিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট দিয়ে।
আরও পড়ুনঃ যত কান্ড আলিয়াতে; CPI(M) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কি বিরক্ত? ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সেলিম
কিন্তু কেন চুপ সেলিম? সাংবাদিকের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এবার ‘সিপিএম ত্যাগী’ প্রতীক উর। কিন্তু ‘রাজনৈতিক প্রশ্নে’ সাফ না সেলিমের। ঠিক কী ঘটেছিল আলিয়াতে? একদিন আগেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল স্টুডেন্ট কনভেনশন। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ছিলেন। ছিলেন আইএএফ বিধায়ক নওশাদ সিদিক্কীও। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামকেও। ছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মীর সিদ্দিকীও।
নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সেখানে যান সেলিম। আর তিনি ঢুকতেই একেবারে নাটকীয় কাণ্ড। সেলিম ঢুকতেই হল থেকে বেরিয়ে যান বহু পড়ুয়া। বয়কট করেন তাঁর ভাষণ। বিরক্ত সেলিম তখন মঞ্চে উঠে বলেন, আর একটু পরে আসলে ভাল হতো। খানিক স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খোঁচা দিয়ে বলতে থাকেন, “আমি শিক্ষা থেকে দূরে থাকি। অশিক্ষিতদের দলে নিজেকে রাখি। এই প্রথম আমি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও আমি দু’তিনবার গিয়েছি।” তবে তাঁর বাকি বক্তব্য রাখার সময় আর কোনও ঝামেলা হয়নি। কিন্তু শেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব এড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সেখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই তাঁর সাফ কথা, “কোনও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর এখানে দেব না। শেষে গাড়িতে উঠেও একই কথা। কোনও রাজনৈতিক কথা বলব না।” সংবাদিকের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধের সময়েই আচমকা তাঁর হাতে দেখা গেল কলার খোসা। একেবারে হাত উঁচিয়ে গাড়ির কাচ নামিয়ে দেখালেন। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে কলা কেন? সেলিমের সাফ জবাব, “কলা দেখাইনি, কলার খোসা দেখিয়েছি। লাঞ্চ করতে পারিনি সময় নেই বলে। এটা খেয়েছি। তাই দেখাচ্ছি।”









