সোমেন দত্ত, কোচবিহারঃ
বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে ওমর ফারুক ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ার পর্যাপ্ত নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে, SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন এই তথ্য সামনে আসতেই তিনি আত্মগোপন করেন। তদন্তে জানা যায়, ওমর দিনহাটা নাগরের বাড়ি এলাকার এক ব্যক্তিকে নিজের বাবা দেখিয়ে SIR এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি ভারতীয় নাগরিক হওয়ার জন্য বিভিন্ন জাল নথিও তৈরি করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ চলতি সপ্তাহে বাতিল একের পর এক লোকাল ট্রেন
ওমর যাকে বাবা দেখিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তির স্ত্রী পরবর্তীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যে, ওমর ফারুক ব্যাপারী তাঁর পুত্র নন। পাশাপাশি, এলাকার দুই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যও জেলাশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান যে ওমর বাংলাদেশী নাগরিক। প্রশাসনের তরফে SIR বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার পরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুক ব্যাপারী অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন যে, তাঁকে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরা ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়েছে। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বৈদেশিক আইনে নির্দিষ্ট ধারা রুজু করে বৃহস্পতিবার তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপ নির্বাচনে দলীয় নেতৃত্বের মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পরে অতিষ্ঠ তৃণমুল নেতা। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে সংবাদ শিরোনামে। জলপাইগুড়ি জেলার কোণে কোণে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বেরিয়ে আসছে। বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে। কিছুদিন আগেই ধুপগুড়ি মহকুমার এক তৃণমুল নেতার মুখে জঙ্গি সংগঠন কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন ( কে এল ও) তে ফিরে গিয়ে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি বদলা নেবার বক্তব্য ভাইরাল হয়।
এবার মহকুমার সাকুয়া ঝোরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের আদি তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ রায় সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ সহ শিলিগুড়ির মেয়র তথা উত্তরবঙ্গের প্রবীণ তৃণমুল নেতা গৌতন দেবকে এক হাত নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। বলেন, ‘’মাত্র ১৫ মাস আগে ধূপগুড়ি বিধানসভার উপ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করতে ধান ক্ষেতে ও নেমেছিলেন। তার একমাত্র কারণ, নিজেদের পদ চেয়ার বাঁচাতে। আর সেই সময় লাগাম ছাড়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামবাসীর ভোট নিলেও আজ পর্যন্ত তার একটিও পালন করেনি কেউ।” তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন যে, ‘’উল্টে দাদা-ভাই প্রাইভেট কোম্পানির থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। অনেক দূরে। সামনে নির্বাচন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তাই অনুরোধ সে দিন যারা নিজেদের পদ ,চেয়ার বাঁচাতে ১ নম্বর সাকোয়া ঝোরায় ঝাপিয়ে পড়ে ছিলেন। আজ গ্রামে আসুন।”









