spot_img
Thursday, 19 February, 2026
19 February
spot_img
HomeকলকাতাBishnu Prasad Sharma: কার্শিয়ঙের বিজেপি মন্দিরের 'বিষ্ণু'-র 'প্রসাদ' তৃণমূলে! ঘাসফুলে বিজেপির বিষ্ণু...

Bishnu Prasad Sharma: কার্শিয়ঙের বিজেপি মন্দিরের ‘বিষ্ণু’-র ‘প্রসাদ’ তৃণমূলে! ঘাসফুলে বিজেপির বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা

বিজেপিতে অস্বস্তি বোধ করতেন বিষ্ণু প্রসাদ৷

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা বৃহস্পতিবার যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসে৷ এদিন তৃণমূল ভবনে ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে শাসক দলে সামিল হলেন তিনি৷ তৃণমূলের দাবি, বিজেপিতে অস্বস্তি বোধ করতেন বিষ্ণু প্রসাদ৷ সেই কারণেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন৷

শাসক দলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক৷ বিজেপির বিরুদ্ধে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ‘জুমলা’র রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন৷ তবে বিজেপির দাবি, বিষ্ণু প্রসাদের যোগদানে পাহাড়ের রাজনীতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না৷

আরও পড়ুনঃ এক প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা যিনি কখনো হারতে শেখেননি! রানী রাসমণি

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্শিয়াং আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা৷ প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার ভোটে তিনি জয়ী হন৷ পরে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন৷ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন৷ এছাড়াও বিজেপিতে থাকাকালীনই তিনি একাধিক ইস্যুতে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন৷ বিশেষ করে গোর্খাল্যান্ড প্রসঙ্গে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে৷ সেই বিষ্ণু প্রসাদই বৃহস্পতিবার থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে চলে এলেন৷

এদিন তৃণমূল ভবনে বিষ্ণু প্রসাদ শর্মাকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘‘বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন আমরা বারবার লক্ষ্য করেছি যে বিজেপির গ্যালারিতে বসে তিনি কতটা অস্বস্তিবোধ করতেন। বিজেপি যখনই কোনও গঠনমূলক আলোচনা এড়িয়ে কেবল হই-হট্টগোল বা ওয়াকআউটের পথ বেছে নিত, বিষ্ণু প্রসাদবাবু তাতে সায় দিতেন না।’’

শশী পাঁজা আরও বলেন, ‘‘তিনি মূলত একজন কৃষক ও পাহাড়ের মাটির মানুষ। পাহাড়ের উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তৃণমূলের দাবি, বিষ্ণু প্রসাদ শর্মার মতো পাহাড়ের একজন পরিচিত মুখের যোগদানে উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠন আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ দুই বাসের রেষারেষি; নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর ধাক্কা সাইকেল-বাইক-অটোতে

যোগদানের পর বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা সরাসরি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গোর্খা জনতাকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্ধকারে রেখেছে বিজেপি। গোর্খাল্যান্ড বা পিপিএস (পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশন)-এর নামে কেবল ‘জুমলা’র রাজনীতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে যা বলেছিল, তা কার্যকর করার জন্য আমি দলের ভেতরে থেকে লড়াই করেছি। এমনকী বিধানসভার ভেতরে নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধরনায় বসেছি। কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত যে বিজেপি গোর্খা জাতিকে কিছুই দেবে না। তারা কেবল শোষণের রাজনীতি বোঝে।” তিনি জানান, কেন্দ্র টাকা না দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার উন্নয়ন থেমে যেতে দেননি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি জানান, এতদিন তিনি বিজেপির ইস্তাহারে বিশ্বাস করে সেই দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু সেই অধ্যায় এখন অতীত। বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সদস্য, তাই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ের জন্য যে নীতি বা ইস্তাহার ঠিক করবেন, তিনি সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। তাঁর কথায়, “আজ থেকে আমার নেত্রী দিদি। তিনি যা ঠিক করবেন, আমি তাই করব। আমি আর কোনও অলীক স্বপ্নের পেছনে দৌড়াতে চাই না।”

পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার একটি বিতর্কিত ভাষণের অডিয়ো ক্লিপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সমালোচনা করেন। রাজু বিস্তার ‘পুলিশের ডান্ডা’ নিয়ে করা হুমকির নিন্দা জানিয়ে বিষ্ণু প্রসাদ জানান, এই ধরনের ‘গুন্ডামি’র রাজনীতি থেকে পাহাড়কে মুক্ত করতেই তাঁর এই দলবদল।

বিষ্ণুর এই দলবদলকে কেন্দ্র করে তেমন কোনও মাথাব্যাথা নেই বিজেপির। দার্জিলিং জেলা (পাহাড়ের) বিজেপির সভাপতি কল্যাণ দেওয়ান বলেন, “বিধায়ক হিসেবেও তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। পাহাড়ের রাজনীতিতে কোনও প্রভাবই পড়বে না।” তবে দার্জিলিং জেলা সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “দলের বিধায়ক হয়েও তিনি তৃণমূলের মুখপাত্রের কাজ করছিলেন। যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নোটার থেকেও কম ভোট পেয়েছিলেন, তাঁর তৃণমূলে যাওয়ার কোনও প্রভাবই পড়বে না। প্রভাবের প্রশ্নই উঠে না৷”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন