spot_img
Saturday, 21 February, 2026
21 February
spot_img
HomeকলকাতাYuva Sathi: গোল্লায় যাক দেশের অর্থনীতি! আইফোন হাতে লাইনে উচ্চশিক্ষিত তরুণীও; ভাতা...

Yuva Sathi: গোল্লায় যাক দেশের অর্থনীতি! আইফোন হাতে লাইনে উচ্চশিক্ষিত তরুণীও; ভাতা হাতে মেরুদণ্ডহীন বাংলার শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম

উচ্চশিক্ষিত, প্রযুক্তিতে স্বচ্ছন্দ, আত্মবিশ্বাসী এক প্রজন্ম । অথচ সেই প্রজন্মেরই হাতে যুবসাথীর ফর্ম !

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ভোটের আগে ঘোষিত ‘যুব সাথী’ যেন কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়— এক রাজনৈতিক মঞ্চও বটে! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এই উদ্যোগ ঘিরে রাজ্য জুড়ে শিবিরে ভিড় যেমন বাড়ছে, তেমনই শিবিরকে সফল করতে ক্ষেত্র বিশেষে কোথাও কোথাও শাসক-বিরোধী ভেদরেখাও মুছে যাচ্ছে !

জলপাইগুড়ির বড়তলায় বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান ও যুব মোর্চা নেতাদের দেখা গেল শিবিরে ‘হেল্প ডেস্ক’ খুলে ফর্ম পূরণে সাহায্য করতে। বর্ধমানের কাটোয়াতেও একই ছবি— সিপিএম কর্মীরা বেকার তরুণ-তরুণীদের পাশে । প্রশ্ন উঠছে, একদিকে প্রকল্পকে ভোটমুখী বলে কটাক্ষ, অন্যদিকে সেই প্রকল্পেই সহযোগিতা— কেন?

আরও পড়ুনঃ ইউনুস, জুলাই জঙ্গি সারজিসও ভয়ে কাঁপতেন! বাংলাদেশে খোঁজ মিলল একটি রহস্যময় শিব মন্দিরের

রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলছেন, “এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্য । সিপিএম এবং বিজেপি যে রাজনীতি করুক না কেন তাঁরা যদি মানুষের জন্য কাজ করে, তাহলে তাঁদেরও উচিত এই প্রকল্পে সরকারকে সাহায্য করা । যাঁরা এমন ভূমিকা নিয়েছেন তাঁরা সঠিক কাজই করছেন । সরকার তো সবার । যতই বিরোধিতা থাকুক, আদতে এর থেকে উপকৃত হচ্ছে সাধারণ মানুষ । তাই মুখে বিরোধিতা করলেও এমন অবস্থান তাঁদের নিতে হচ্ছে। আমরা এক্ষেত্রে তাঁদের ওয়েলকাম জানাচ্ছি ।”

দুপুরের রোদে চকচক করছে মোবাইলের স্ক্রিন । হাতে আইফোন, পরনে দামি জিনস-টপ, কোমরে ঝুলছে চারচাকা গাড়ির চাবি । দৃশ্যটা যেন কোনও ক্যাফের বাইরে দাঁড়ানো শহুরে তরুণীর । অথচ তিনি বসে আছেন আসানসোলের রবীন্দ্রভবন চত্বরে— যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করতে !

চারপাশে কৌতূহলী চোখ । ফিসফাসও কম নয় । কিন্তু তরুণীর কণ্ঠে দ্বিধা নেই । মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স করেছেন । আরও পড়তে চান । চাকরি এখনও জোটেনি । “সরকার যখন মাসে দেড় হাজার টাকা দিচ্ছে, নেব না কেন? পড়াশোনার ফাঁকে হাতখরচ তো লাগেই ।” সংক্ষিপ্ত উত্তর, কিন্তু তাতে লুকিয়ে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা । রবিবার দুপুরে আসানসোলের রবীন্দ্রভবন চত্বরের ওই ছবি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল ৷

অন্য ছবি চুঁচুড়ায় । Indian Institute of Technology Guwahati-তে এমটেক করছেন অর্ণব মুখোপাধ্যায় । তাঁর জন্য ফর্ম তুলতে গত সোমবার যুবসাথীর লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা অলোকবাবু । সদর মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “আইআইটি-তে পড়াশোনা সস্তা নয়। সামনে চাকরির প্রস্তুতিও আছে। সরকার সাহায্য করলে উপকারই হবে ।”

এই লাইনে শুধু সাধারণ পরিবার নয়— আছেন পিএইচডি গবেষক, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ তরুণ, আবার শহুরে উচ্চবিত্তও। দেড় হাজার টাকার অঙ্ক হয়তো বড় নয়, কিন্তু প্রতীকী । কারণ, এই লাইনে দাঁড়ানো মানেই এক স্বীকারোক্তি— স্থায়ী কর্মসংস্থান এখনও দূরস্বপ্ন ।

আরও পড়ুনঃ সঙ্ঘপ্রধানকে তিন সন্তানের বাবা হওয়ার পরামর্শ শঙ্করাচার্যের

১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ফর্ম বিলি, চলবে ২৬ তারিখ পর্যন্ত । ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন । ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক পাশ । পাঁচ বছর মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা— ১ এপ্রিল থেকে মিলবে বলে ঘোষণা । আবেদনকারীর প্রকৃত কর্মহীনতা যাচাই করবেন সরকারি আধিকারিকেরা।

বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল কটাক্ষ করে বলেছেন, “চাকরি দিতে না পেরে ভাতা । আইআইটি পড়ুয়াও যদি লাইনে দাঁড়ায়, তা হলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা কঠিন ।” পাল্টা তৃণমূলের নেতাদের যুক্তি, যতদিন চাকরি মিলছে না, ততদিন সহায়তা প্রয়োজন । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শিক্ষাবৃত্তি পেলেও যুবসাথীতে আবেদন করা যাবে, তবে অন্য ভাতার সঙ্গে একসঙ্গে নয় ।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসানসোল থেকে চুঁচুড়া— মফস্বলের এই দুই শহরে ধরা পড়া ছবিগুলো আসলে বৃহত্তর বাংলার প্রতিচ্ছবি । উচ্চশিক্ষিত, প্রযুক্তিতে স্বচ্ছন্দ, আত্মবিশ্বাসী এক প্রজন্ম । অথচ সেই প্রজন্মেরই হাতে যুবসাথীর ফর্ম !

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেড় হাজার টাকা হয়তো জীবনের মোড় ঘোরায় না। কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলো জানিয়ে দেয়— কর্মসংস্থানের প্রশ্নটা এখনও অমীমাংসিত। আইফোনের ঝলকানি কিংবা আইআইটির স্বপ্ন পেরিয়েও বাস্তবের মাটি যে কঠিন, যুবসাথীর শিবিরে সেই কঠিন সত্যকেই সামনে নিয়ে এসেছে৷

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন