spot_img
Saturday, 21 February, 2026
21 February
spot_img
HomeকলকাতাLeft Front: সমঝোতার অঙ্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে, লেজে গোবরে X Gen নেতারা!...

Left Front: সমঝোতার অঙ্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে, লেজে গোবরে X Gen নেতারা! অতীত গৌরব পুনরুদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা আলিমুদ্দিনের!

আরএসপি তরফে প্রায় ২০টির কাছাকাছি আসন দাবি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা ১২ থেকে ১৫ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শরিকদের বক্তব্য, তাই, বামফ্রন্টের বাইরে অতিবাম-সহ সংখ্যালঘু কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে আসন ছাড়ার পরিকল্পনা নিচ্ছেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, আভাস রায়চৌধুরী-সহ সুজন চক্রবর্তীরা। ফলে, বিগত কয়েক নির্বাচনের মতো আসন রফা নিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ গোল্লায় যাক দেশের অর্থনীতি! আইফোন হাতে লাইনে উচ্চশিক্ষিত তরুণীও; ভাতা হাতে মেরুদণ্ডহীন বাংলার শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম

কেন? সূত্রের খবর, উত্তর মূলত দু’টি। এক, কংগ্রেসের ছেড়ে যাওয়া ৯১টি আসনে ভাগ বসাতে উদগ্রীব বামফ্রন্ট শরিকরা। দুই, বামফ্রন্টের বাইরের যে চার-পাঁচটি রাজনৈতিক দল তথা সদ্য গজিয়ে ওঠা সংখ্যালঘু কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যেও আসন ছাড়তে চাইছে সিপিআইএম। যা নিয়ে মারাত্মক চাপে আছেন মহম্মদ সেলিম, বিমান বসুরা।

একদিকে, বামফ্রন্ট শরিকদের তুলনামুলক বেশি আসনের দাবি। অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর একাধিক আসনের দাবি। তদুপরি, ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে তরুণতুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমানের দলের উপর বিষোদ্গার করে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভবনা।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ‘ভাগ বাটোয়ারার’ খেলায় ‘আম্পায়ার’ সেলিম অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। যে কারণে বৃহস্পতিবার সিপিআইএম-এর রাজ্য কমিটির প্রথম দিনের বৈঠকে প্রতীক উর রহমানের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে নিষেধ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এবারের নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই বৃত্ত বাড়ানোর কথা বলছিলেন মহম্মদ সেলিমেরা। মহম্মদ সেলিম নিজেই বহুবার বলেছেন যে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সবশক্তিকে নিয়েই এই বৃহত্তর বৃত্ত গড়তে চান তাঁরা৷ কিন্তু তা করতে গিয়েই বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী ভোট একাধিক ভাগে ভাগ হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, এই বৃত্ত তৈরির অনেক আগে কংগ্রেসের বেরিয়ে যাওয়া। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে মালদা-মুর্শিদাবাদ এলাকার সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ভাগ হওয়া। একইভাবে সংখ্যালঘু আদিবাসী জনজাতি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল তৈরি হওয়া।

তাহলে বৃত্তে কারা কারা থাকছে? আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রের দাবি, “এখনও পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে, বামফ্রন্টের চার শরিক ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, সিপিআই সঙ্গে রয়েছে। নতুন করে সিপিআইএমএল লিবারেশনকে সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, সিপিআইএমএল লিবারেশন মাস লাইন বা রেড স্টার, নওশাদ সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, আজাদ সমাজ পার্টি, ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া, সংবিধান প্রণেতা আম্বেদকরের নামাঙ্কিত একটি রাজনৈতিক দলের ইতিমধ্যে আলিমুদ্দিনের যোগাযোগ করেছে। যারা মূলত আদিবাসী জনজাতি সংখ্যালঘু মানুষকে একাট্টা করার টার্গেট নিয়েছে।”

এসবের বাইরে গিয়েও আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকীর পরিবার ঘনিষ্ঠ সংখ্যালঘু মুখ সৈয়দ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তৈরি জাতীয় উন্নয়ন পার্টিও সামিল হওয়ার সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে। সবমিলিয়ে, এই এতগুলো রাজনৈতিক দলকে এক জায়গায় করা, তাদের সকলের দাবি পূরণ করা অর্থাৎ আসন সমঝোতার অঙ্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

কোন রাজনৈতিক দলকে কতগুলো আসন দেওয়া হতে পারে? সূত্রের দাবি, আসন সংখ্যা বরাদ্দের থেকে একই আসনের অনেকগুলো দাবিদার রয়েছে। ফলে, প্রত্যেকের দাবি মেটাতে নাভিশ্বাস উঠছে মহম্মদ সেলিম, বিমান বসুদের। সিপিআইএমএল লিবারেশন-এর তরফে প্রথম পর্যায়ে ১২টি আসনের দাবি করা হয়েছিল। যে তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা নৈহাটি, নদীয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, উত্তরবঙ্গের ফাঁসিদেওয়া মতো বেশ কয়েকটি আসন রয়েছে। যদিও লিবারেশনকে চারটি আসন ছাড়া হতে পারে বলে আলিমুদ্দিন সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে, আম্বেদকরের নামাঙ্কিত রাজনৈতিক দল নাকি উত্তরবঙ্গ দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে 21টি আসন চেয়ে বসেছে। তালিকায়, উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া, গাইঘাটা, স্বরূপনগর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের মালবাজার বর্ধমানের আউশগ্রাম রয়েছে। মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া বিধানসভা ছাড়তে নারাজ সিপিআই। সেই আসনটি চেয়ে বসেছে আইএসএফ। একইভাবে হুগলির উত্তরপাড়া আসনটি নিয়েও জটিলতা রয়েছে। যদিও সেখানে ইতিমধ্যে সিপিআইএমের তরফে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রচার শুরু করেছেন।

একইভাবে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি আসনেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। সোনারপুর উত্তর, সোনারপুর দক্ষিণ, বাইরুপুর পশ্চিম আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সোনারপুর দক্ষিণে সিপিআইএম স্থানীয় নেতৃত্ব প্রার্থী দিতে চাইছে। সেই একই আসন পেতে উদ্যোগী বামফ্রন্ট শরিক সিপিআইও। সোনারপুর উত্তরে আবার সিপিআইএম নেত্রী মোনালিসা সিনহাকে প্রার্থী করতে নারাজ একাংশ।

আরও পড়ুনঃ নেতৃত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ! বিনয় কোঙারের ছেলের পোস্টে সিপিএমে বিদ্রোহের সুর

আরএসপি তরফে প্রায় ২০টির কাছাকাছি আসন দাবি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা ১২ থেকে ১৫ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফরওয়ার্ড ব্লক আবার ১৯টি আসন চেয়েছে। তুলনামূলক, বামফ্রন্ট শরিকদের থেকে বেশি আসন পেতে চলেছে আইএসএফ। তাদের জন্যে ৩০ থেকে ৩৫টি আসন ছাড়া হতে পারে। এরকম প্রাথমিক হিসাব নিয়ে আজ থেকে সিপিআইএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সেখানে ২০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

বৃহস্পতিবার সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ক রিপোর্ট গ্রহণের পর আগামিকাল সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির উপস্থিতিতে আসন রক্ষার প্রাথমিক রিপোর্ট মহম্মদ সেলিম পেশ করতে চলেছেন। কিন্তু, আসন রফা নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি না-হওয়ায় নির্বাচন ঘোষণার আগের যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই সূত্রের দাবি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন জায়গায় দাঁড়ায়, তা আরও কয়েকটি দিন না-গেলে উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন