বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতীয় বেসরকারি বিমান সংস্থা স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘতর রুটে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং যাত্রীদের অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুনঃ ১৬ বছরের নীচেব্যবহার করা যাবে না সোশ্যাল মিডিয়া! বিধিনিষেধ জারির ভাবনা কেন্দ্রের
সূত্রের খবর অনুসারে, স্পাইসজেটের বকেয়া এয়ার নেভিগেশন চার্জ, ল্যান্ডিং ফি, পার্কিং চার্জসহ বিভিন্ন ফি পরিশোধ না করায় বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএবি) এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকার কাছাকাছি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও স্পাইসজেট এই টাকা পরিশোধ না করায় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
ফলে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি, ইম্ফলসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রুটে ফ্লাইটগুলোকে বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে যেতে হচ্ছে। এতে উড়ানের সময় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বেড়ে যাচ্ছে, জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং সামগ্রিক অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্পাইসজেটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি রুটিন ইন্ডাস্ট্রি ইস্যু এবং তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।
তবে তাদের অপারেশন এখনও অপ্রভাবিত রয়েছে বলে দাবি করা হলেও শেয়ার মার্কেটে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।এই ঘটনাকে অনেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভারত-বিরোধী অবস্থানের প্রথম স্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
আরও পড়ুনঃ আজ শিলিগুড়িতে সবজি বিক্রেতাদের মধ্যে সবজির দাম নিয়ে চরম মতবিরোধ
যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার আশা প্রকাশ করেছেন, তবু এই ধরনের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।অন্যদিকে, বাংলাদেশেরও ভারতীয় কোম্পানিগুলোর কাছে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে।
বিশেষ করে আদানি পাওয়ারের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিল বাবদ বাংলাদেশের বকেয়া ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। গত বছরের শেষের দিকে এবং চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ বড় অঙ্কের পেমেন্ট করে বকেয়া কমিয়েছে। জুন মাসে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলারের পেমেন্ট করে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আদানির দাবি অনুযায়ী কিছু অতিরিক্ত চার্জ এখনও অমীমাংসিত থাকতে পারে। এছাড়া অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির কাছেও বাংলাদেশের বকেয়া রয়েছে বলে খবর।









