কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সম্পত্তি কর বাবদ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বকেয়া। আর সেই বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় নিয়েই চিন্তায় শিলিগুড়ি পুরনিগম। তাই এবার সম্পত্তি কর আদায়ে কঠোর মনোভাব দেখাতে চলেছে শিলিগুড়ি পুরনিগম ৷ সরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে সম্পত্তি কর আদায় করতে বাড়তি তাগিদ দেখাতে চাইছে তারা ৷
গত সাতমাসে ১০ কোটি ৮১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪২ টাকা সম্পত্তি কর আদায় করেছে পুরনিগমের রাজস্ব বিভাগ ৷ এবারে সেই কর আদায়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ ৷ তাই আগামী চারমাসে কর আদায়ের পরিমাণ ১৪ কোটি টাকা করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নামছে শিলিগুড়ি পুরনিগম ৷
আরও পড়ুনঃ উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়! ভোট আবহে ছাত্র সংঘর্ষ
তবে, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে ১৮ কোটি টাকা কর বকেয়া থাকা সত্ত্বেও উপাসনালয়, দাতব্য ট্রাস্ট, সোসাইটি, মাদ্রাসা ও হাই-মাদ্রাসা এবং স্কুলের সম্পত্তি করে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মেয়র গৌতম দেবের নেতৃত্বাধীন শিলিগুড়ি পুরনিগমের বোর্ড ৷
পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পত্তি কর আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে ৷ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সম্পত্তি কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৪৯ লক্ষ ২১ হাজার ৪১৮ টাকা ৷ ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা ছিল ১২ কোটি ৯ লক্ষ ২০ হাজার ৩৩১ টাকা ৷ আর ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কর আদায়ের পরিমাণ কিছুটা কমে গিয়ে ১১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫ হাজার ১২০ টাকা হয়েছে ৷ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬৬হাজার ৯ টাকা ৷
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৮১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪২ টাকা ৷ এছাড়া রাজ্য সরকারের ৪৬টি অফিসের কাছে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ ১৪ কোটি ২ লক্ষ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা ৷ আর কেন্দ্রীয় সরকারের পাঁচটি অফিসের কাছে বকেয়া সার্ভিস চার্জের পরিমাণ ৪ কোটি ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ২৮৯ টাকা ৷ এই দুই মিলিয়ে সরকারি দফতরগুলির কাছে বকেয়া করের পরিমাণ ১৮ কোটি টাকার বেশি ৷
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির হোল্ডিং নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৷ ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে হোল্ডিং নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ১২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬৬১ টাকা ৷ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৯২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ৷ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১০ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বেশি হয় ৷
একইভাবে ২০২১-২২ এ ছিল ৯কোটি ৯৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৪৮ টাকা ৷ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৬৯ টাকা ৷ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৯ কোটি ৬০ লক্ষ ২ হাজার ৪৮৪টাকা ৷
এই বিষয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, “মাত্র সাত মাসে সম্পত্তি কর বাবদ এত টাকা আদায় হয়েছে, তা চলতি আর্থিক বছরের তুলনায় বেশি ৷ আগামী চার মাসে তা আরও বাড়বে বলে আশা করছি ৷ সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে ৷ পেনশন, অনুদান, উপাসনালয়, দাতব্য ট্রাস্ট, সোসাইটি, মাদ্রাসা, স্কুলের সম্পত্তি কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে ৷”
এখন দেখার, কঠোর অবস্থান নিয়ে সরকারি দফতরগুলির কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে কতটা সফল হয় শিলিগুড়ি পুরনিগম।









