ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর শেষ সপ্তাহে এসে কলকাতার বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তির ছবি ফুটে উঠেছে। শীতের মরসুম প্রায় শেষের পথে, তবে পর্যাপ্ত জোগানের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ সবজির দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীদের কথায়, এ সময় সাধারণত সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। আলুর বাজারে বিশেষ পরিবর্তন নেই। পাইকারি বাজারে মানভেদে প্রতি কুইন্টাল ৭২০ থেকে ৮২০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে আলু। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে এই দাম যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন বিক্রেতারা।
পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল। নতুন পেঁয়াজ বাজারে ঢুকতে শুরু করায় দাম কমেছে। পাইকারি দর কুইন্টাল প্রতি প্রায় ১৬০০ টাকার কাছাকাছি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১৮.৫০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে মিলছে পেঁয়াজ। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে দাম নিয়ে উদ্বেগ ছিল, সেখানে এখন কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইছে।
টমেটোর দামও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। পাইকারি বাজারে কুইন্টাল প্রতি ১৬০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গৃহিণীদের মতে, এই দামে রান্নার খরচ সামলানো সহজ হচ্ছে।
তবে সবজির বাজারে সব পণ্যের ছবি এক নয়। বেগুনের দাম কিছুটা বেশি। মানভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। পাইকারি বাজারে কুইন্টাল প্রতি ১৮০০ থেকে ২৮০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। একইভাবে উচ্ছে বা করলার দামও বেশ চড়া খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ১১০ টাকা পর্যন্ত ছুঁতে পারে।
বাঁধাকপি অবশ্য এখনও সস্তার দলে। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে কুইন্টাল প্রতি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে লেনদেন চলছে। কাঁচালঙ্কার দাম কিন্তু বেশ চড়া। পাইকারি বাজারে কুইন্টাল প্রতি ৮৫০০ থেকে ৯৬০০ টাকার মধ্যে দাম ঘোরাফেরা করছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মরসুমে সবজির দাম এখন তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়া জেলার মতো পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে নিয়মিত সবজি আসায় সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। ফলে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আপাতত নেই।
তবে সামনে রমজান মাস শুরু হওয়ায় কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে লেবু ও শসার মতো পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় এই সময়ে। ইতিমধ্যে বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।









