দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তবে এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ১ মার্চ থেকেই বাংলায় চলে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। সবমিলিয়ে আপাতত ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহের মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে হাই-অ্যালার্ট; বড়সড় হামলার ছক লস্কর-ই-তইবার
বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তারপর ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। সেই নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্যকে বার্তা পাঠিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, কমিশনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১ মার্চ বাংলায় আসবে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওই ২৪০ কোম্পানির মধ্যে সিআরপিএফ থাকবে ১১০ কোম্পানি। এছাড়া বিএসএফ ৫৫ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২১ কোম্পানি, আইটিবিপি ২৭ কোম্পানি এবং এসএসবি ২৭ কোম্পানি থাকছে।
এরপর আগামী ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় আসবে। তার মধ্যে সিআরপিএফ থাকবে ১২০ কোম্পানি। এছাড়া বিএসএফ ৬৫ কোম্পানি, সিআইএসএফ ১৬ কোম্পানি, আইটিবিপি ২০ কোম্পানি এবং এসএসবি ১৯ কোম্পানি থাকছে।
রাজ্যের কোথায় কত কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার জন্য রাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে। জানা গিয়েছে, আপাতত বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি শুরু করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ ‘মিশন সুদর্শন’; দুর্ভেদ্য হচ্ছে ভারতের আকাশ, মোদীর মেগা পরিকল্পনা
ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে আক্রমণ করে তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “আজ মনে হচ্ছে, ভোট ঘোষণার ৫-৭ দিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কিন্তু, ভোট ঘোষণার এক ঘণ্টা আগেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অধিকার নেই। কারণ, আজকে ১৫ দিন আগে আনছে। এরপর ২ বছর আগে আনবে। বলবে, এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্য। মানুষের মধ্যে বিশ্বাসবোধ জাগানোর জন্য। নির্বাচন কমিশন বললেই তো হল না। রাজ্যের অধিকার রয়েছে। এসব জলাঞ্জলি দিয়ে বিজেপির নির্দেশে এসব হচ্ছে।”
অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার যা অবস্থা, প্রত্যেকে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। যে সরকার এসআইআর শেষ করাতে পারেনি। রাজ্যের অসহযোগিতার জন্য তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে। গ্রামের মানুষ ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। সবাই বলছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী চাই। না হলে ভোট হবে। সেই পরিস্থিতিতে এই সরকারের উপর রাজ্যবাসীরই ভরসা নেই। তাই, ভোট যদি করাতে হয়, মানুষের বিশ্বাস যদি বাড়াতে হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আর আগামী তিন মাস যেন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে এখানে। না হলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।”









