পুরীর রত্নবেদি ছেড়ে ত্রিকূট পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপনের কাহিনি, আজও ভক্তদের কাছে পরম পবিত্র পাতালি শ্রীক্ষেত্র
পুরীর বাইরেও রয়েছে মহাপ্রভু জগন্নাথের এক রহস্যময় লীলাভূমি। ওড়িশার সুবর্ণপুর জেলার কোটসমলাই গ্রামের ত্রিকূট পাহাড়ে অবস্থিত সেই পুণ্যস্থান ‘পাতালি শ্রীক্ষেত্র’। ওড়িশা পর্যটন দফতরের ধর্মীয় পর্যটনস্থলের তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে এই মন্দির।
আরও পড়ুনঃ অবশেষে মমতা-স্মৃতি রেখে, চলেই গেলেন গেলেন কেষ্ট
কী বলছে প্রাচীন কাহিনি?
লোকবিশ্বাস ও ‘মাদলাপাঞ্জি’-ভিত্তিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, শ্রীমন্দিরে রক্তবাহুর আক্রমণের আশঙ্কায় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ পুরী থেকে সরিয়ে ত্রিকূট পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কথিত আছে, প্রায় ১৪৪ বছর সেখানেই অন্তরালে ছিলেন মহাপ্রভু।
পরে সোমবংশীয় রাজা যযাতি কেশরী বিগ্রহের সন্ধান পান এবং শ্রীক্ষেত্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
ইতিহাসের খোঁজে বিশেষ দল
২০০৭ সালে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ, ওড়িশা রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব দফতর, জগন্নাথ-সংস্কৃতির গবেষক এবং পুরীর সেবায়েতদের একটি দল স্থানটি পরিদর্শন করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুসন্ধানের পর ত্রিকূট পাহাড়ের একটি গুহাকে মহাপ্রভুর দীর্ঘদিনের গুপ্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত ত্রিমূর্তি
পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের দেওয়া জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা ও সুদর্শনের বিগ্রহ ২০১১ সালে পাহাড়ের ছোট মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১২ সালে সেখানে একটি বৃহৎ মন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে।
প্রকৃতি, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য মিলনস্থল পাতালি শ্রীক্ষেত্র। পুরী যদি মহাপ্রভুর প্রকাশ্য লীলাভূমি হয়, তবে ভক্তদের বিশ্বাসে এই পাহাড় তাঁর গুপ্ত লীলার পবিত্র সাক্ষী।
প্রতিবেদনের ঐতিহাসিক অংশের কিছু তথ্য লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় গ্রন্থ, আঞ্চলিক ইতিহাস ও প্রচলিত কাহিনির উপর নির্ভরশীল। ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় গবেষকভেদে মতপার্থক্য থাকতে পারে।


