কলকাতা:
‘মিষ্টি কথায়’ ভুলিয়ে ভালোবাসার ফাঁদ (Fake Love Trap), তারপর কলকাতায় এনে এক লহমায় বিক্রি করে দেওয়ার ভয়ঙ্কর নজির সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার এক ১৬ বছরের কিশোরীকে কলকাতার সোনাগাছিতে এনে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত ভেস্তে দিল পুলিশ। চাইল্ড হেল্পলাইনের দেওয়া ইমেল ও ১০০ ডায়াল নম্বরে পাওয়া খবরের ওপর ভিত্তি করে বড়তলা থানার পুলিশ মাত্র ১ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে। এই মানব পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে কিশোরীর তথাকথিত প্রেমিক ও চক্রের অন্য এক পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ ট্রেনেই নৃশংসতা! মহানন্দা এক্সপ্রেসে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর উপর অত্যাচার
দ্রুত অভিযান ও উদ্ধারের মুহূর্ত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
হেল্পলাইনের সূত্র: শুক্রবার চাইল্ড হেল্পলাইন থেকে বড়তলা থানায় একটি জরুরি ইমেল আসে। পাশাপাশি ১০০ ডায়াল নম্বরেও ঘটনাটির বার্তা পৌঁছায়।
-
তৎক্ষণাৎ তল্লাশি: খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বড়তলা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সোনাগাছি এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
-
সোনাগাছি থেকে উদ্ধার: দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটের একটি বাড়িতে নির্দিষ্ট সূত্র ধরে হানা দিয়ে ওই ১৬ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ে দেখে তার সত্যতা যাচাইয়ের পর তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ট্রেনেই নৃশংসতা! মহানন্দা এক্সপ্রেসে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর উপর অত্যাচার
তদন্তে উঠে আসা বিস্ফোরক তথ্য
তদন্তকারীদের দাবি, এই পাচারের নেপথ্যে ছিল সুপরিকল্পিত প্রেমের অভিনয় ও টাকার লেনদেন:
-
প্রেমের নাটক: উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা শফিকুল মোল্লা ওরফে বাবলু নামে এক যুবক প্রথমে ওই কিশোরীর সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় করে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
-
বিক্রি ও নজরদারি: সুযোগ বুঝে কিশোরীকে কলকাতায় নিয়ে এসে টাকার বিনিময়ে শাহরুল লস্কর ওরফে শাহরুখ নামে সোনাগাছির এক যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সোনাগাছিতে পৌঁছানোর পর কিশোরীটি শাহরুখেরই কড়া নজরদারিতে বন্দি অবস্থায় ছিল।
আরও পড়ুনঃ ‘ভালো তৃণমূল বলে আবার কিছু হয় নাকি?’— বুকে কষ্ট চেপে চুপ কর্মীরা, বাড়ছে অস্বস্তি!
অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও কড়া আইনি পদক্ষেপ
কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি বড়তলা থানার পুলিশ মূল দুই অভিযুক্ত শফিকুল মোল্লা ও শাহরুল লস্কর ওরফে শাহরুখকে গ্রেফতার করেছে।
-
জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা: ধৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অপহরণ এবং ধর্ষণের মতো একাধিক অত্যন্ত গুরুতর ও জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
-
আন্তর্জাতিক বা রাজ্যভিত্তিক পাচার চক্রের যোগ: শফিকুল কেবল প্রেমের নাটক করে ব্যক্তিগত লাভে বিক্রি করেছিল নাকি সে কোন বড় সংগঠিত নারী পাচার চক্রের ‘আড়কাটি’ (agent) হিসেবে কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে সোনাগাছির শাহরুখের মাধ্যমে পূর্বে আর কতজন নাবালিকাকে এভাবে পাচার করা হয়েছে, তা জানতে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


