বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
উপনির্বাচনের আবহেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার প্রতিবাদ জানিয়ে শেষ পর্যন্ত এই কেন্দ্র থেকে নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিল বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপি (RSP)। একই সঙ্গে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দরজায় কড়া নাড়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটির রাজ্য নেতৃত্ব।

শনিবার মনোনয়নপত্র পরীক্ষার (স্ক্রুটিনি) পর কমিশন জানায়, আরএসপি-র ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘কোদাল-বেলচা’ দেওয়া সম্ভব নয়, তার পরিবর্তে ‘বালতি’ প্রতীক বরাদ্দ করা হচ্ছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হেনস্থা ও গভীর ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
আরও পড়ুনঃ ‘কোদাল ও বেলচা’ প্রতীকে না কমিশনের; রেজিনগর উপনির্বাচন বয়কটের ঘোষণা আরএসপি-র
প্রতীক বাতিল ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের আঁতাতের দিকে আঙুল তুলে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য:
“কোদাল-বেলচা কেবল একটা নির্বাচনী চিহ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম ও লাখ লাখ কর্মী-সমর্থকের আবেগ। আচমকা এই পরিচিত প্রতীক আটকে দেওয়া গভীর ষোড়যন্ত্রেরই অংশ। আমরা এই পক্ষপাতিত্ব মেনে নেব না এবং ইতিমধ্যেই আইনি পরামর্শ নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।“
বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও ভোটের সমীকরণ
রেজিনগর আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের ভেতরের বিরোধ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল।
-
সিপিআইএম বনাম আরএসপি: সিপিআইএম (CPIM) এককভাবে প্রার্থী দিলে আরএসপি নেতৃত্ব দলীয় মত বজায় রাখতে প্রবীণ নেতা বিকাশচন্দ্র মিশ্রকে পাল্টা প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে প্রচার শুরু করে।

-
বর্তমান পরিস্থিতি: আরএসপি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোয় রেজিনগরে এখন বামেদের হয়ে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএম প্রার্থী। তবে শরিকি বিবাদের জেরে আরএসপি সমর্থকেরা আদৌ ‘কাস্তে-হাতুড়ি-তারা’ চিহ্নে ভোট দেবেন নাকি নিষ্ক্রিয় থাকবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠে গেছে।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনঘনিষ্ঠ ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’র জয়
মনোনয়ন প্রত্যাহারের জল্পনা ও সার্বিক রাজ্য রাজনীতি
রেজিনগরের এই ঘটনার পাশাপাশি সার্বিক উপনির্বাচনী আবহাওয়ায় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে পৌঁছেছে। ‘মমতা-তৃণমূল’ শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান নন্দীগ্রাম থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর অন্যান্য কেন্দ্রেও নেতৃত্বের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জল্পনা ডানা মেলছে।

একদিকে প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর নাটকীয় মোড় এবং অন্যদিকে আরএসপির আদালতমুখী হওয়ার জোড়া ধাক্কায় উপনির্বাচনের গতিপ্রকৃতি এক নতুন জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।


