কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উৎসবের মরশুমের মুখেই চরম চাঞ্চল্য দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। ১২০ টাকার ‘মটন পোলাও’-এর থালায় খাসির মাংসের বদলে বিড়ালের মাংস দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্ত দোকানদারকে আটক করার পাশাপাশি খাবারের দোকান ও যেখান থেকে মাংস কেনা হয়েছিল, সেই দোকানটিও সিল করে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে কলকাতার কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে।
আরও পড়ুনঃ মহিলাদের বিনামূল্যে বাস সফরে আর্থিক চাপ NBSTC-তে; নবান্নের কাছে আরও ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় নিগম
হাড়ের গড়ন ও স্বাদে সন্দেহ: ঘটনার সূত্রপাত
মঙ্গলবার রাতে গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাতের একটি খাবারের দোকানে পোলাও খেতে যান ডিটলহাটের বাসিন্দা অমিত সরকার। অভিযোগ, খাসির মাংস মুখে দেওয়ার পরই তার স্বাদ, গন্ধ এবং হাড়ের সূক্ষ্ম গঠন দেখে সন্দেহ হয় তাঁর।
-
অভিযোগকারীর বক্তব্য: খাসির হাড় সাধারণত চওড়া ও পরিপুষ্ট হয়। কিন্তু থালায় থাকা হাড়ের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির, যা দেখে তাঁর মনে হয় সেটি বিড়ালের মাংস হতে পারে।
-
এলাকায় বিক্ষোভ: দোকানদার বাঞ্ছা কুণ্ডুর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হলে সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ পৌঁছায় এবং দোকানদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর (Food Safety Dept) যৌথ অভিযান চালায়।
[ পোলাওয়ের মাংস নিয়ে গ্রাহকের সন্দেহ ও বিক্ষোভ ]
│
▼
[ গঙ্গারামপুর থানা ও ফুড সেফটির যৌথ অভিযান ]
│
▼
┌──────────────────────┴──────────────────────┐
▼ ▼
[ খাবারের দোকান ও ফ্রিজ সিল ] [ বেআইনি মাংসের দোকান বন্ধ ]
• লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ • পর্যাপ্ত নথির অভাব
• ব্যবসায়ী আটক • নমুনা সংগ্রহ ও বাজেয়াপ্ত
└──────────────────────┬──────────────────────┘
▼
[ ল্যাব পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রেরিত ]
আরও পড়ুনঃ “ভারত গর্বিত”; রক্তক্ষয়ী ককপিটে ১৮০ প্রাণ বাঁচিয়ে মোদি-নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের প্রশংসায় প্লাবিত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত
অভিযোগ বনাম সাফাই: এক নজরে অবস্থান
| পক্ষ / আধিকারিক | বর্তমান দাবি ও গৃহীত পদক্ষেপ |
| অভিযোগকারী (অমিত সরকার) | পোলাওয়ে খাসির বদলে বিড়ালের মাংস ব্যবহারের স্পষ্ট সন্দেহ প্রকাশ ও লিখিত অভিযোগ। |
| খাবারের দোকানদার (বাঞ্ছা কুণ্ডু) | ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে দাবি করেন, তিনি স্থানীয় বাজারের নির্দিষ্ট বিক্রেতার থেকে খাসির মাংস হিসেবেই কিনে এনেছিলেন। |
| খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর | বৈধ ফুড লাইসেন্স না থাকায় দোকান দুটি বন্ধ করা হয়েছে। ল্যাব রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মাংসের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। |
ফরেনসিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার অফিসিয়াল রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে পোলাওয়ে পরিবেশন করা মাংসটি প্রকৃতপক্ষে কোন প্রাণীর ছিল।


