সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয়, ভগ্ন পরিকাঠামো এবং শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক বাজেট ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে নজিরবিহীন ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ দেশ ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে লিঁও, স্ট্রাসবার্গ এবং মন্টপেলিয়ারের মতো প্রধান শহরগুলিতে শত শত হাইস্কুল ও কলেজের গেটে ব্যারিকেড গড়ে এবং ডাস্টবিনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় হাজার হাজার পড়ুয়া।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ার গ্যাস) শেল ফাটালে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘জেলে ভরে দেখাক’, চ্যালেঞ্জ দীপকের, CJP-র আন্দোলনে অন্ধকার দিল্লি, স্তব্ধ হচ্ছে মুম্বইও
বিক্ষোভের নেপথ্য কারণ ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বছরের পর বছর ধরে ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক অবহেলা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল:
-
বিপজ্জনক পরিকাঠামো ও শিক্ষক সংকট: স্কুলের ছাদে ফাটল, জল পড়া এবং বিপজ্জনক ক্লাসরুমের মধ্যেই বাধ্য হয়ে পড়াশোনা চলছে। অতিরিক্ত ছাত্রসংখ্যা এবং পর্যাপ্ত বেতনের অভাবে যোগ্য শিক্ষকরা চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় পঠনপাঠন ভেঙে পড়েছে।
-
সামাজিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য: সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফরাসি শিক্ষাব্যবস্থা এমন এক কাঠামোর রূপ নিয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীর পারিবারিক আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই তার ভবিষ্যৎ ঠিক করে দিচ্ছে।
-
অন্যান্য সমস্যা: বিশ্ববিদ্যালয়ের জটিল ভর্তি প্রক্রিয়া, আবাসন সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় পড়ার অনুপযুক্ত পরিবেশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তারা।
হিংসাত্মক সংঘাত, অগ্নিসংযোগ ও হতাহত
শুক্রবার ফ্রান্সে বিগত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলন প্রত্যক্ষ করা যায়:
| ক্ষেত্র / বিষয় | বর্তমান তথ্য ও প্রশাসনিক ক্ষয়ক্ষতি |
| বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল | প্যারিসের বিখ্যাত ‘লিসি ভলতেয়ার’ (Lycée Voltaire)-সহ লিঁও, স্ট্রাসবার্গ ও মন্টপেলিয়ার। |
| অগ্নিসংযোগ ও সংঘাত | প্যারিসের দুটি বড় স্কুলের প্রধান ফটক ও ডাস্টবিনে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ারওয়ার্কস ও ইট ছোড়ার জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। |
| আহত শিক্ষাকর্মী | ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রকের মতে, সংঘর্ষে প্রায় ৬৫ জন শিক্ষাকর্মী আহত হয়েছেন; যার মধ্যে অন্তত ৪০ জন স্কুলের প্রধান শিক্ষক/প্রিন্সিপাল! |
| পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ | সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সরকার এটিকে “নগর হিংসা” (Urban Violence) বলে আখ্যা দিয়েছে। |
আরও পড়ুনঃ ৯০% শেষ চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত! দাবি শুভেন্দুর
শিক্ষার্থীদের মূল দাবিদাওয়া
আন্দোলনকারী ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনগুলি সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়েছে:
১. শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট বহুগুণ বৃদ্ধি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন।
২. দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি।
৩. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কম খরচে আবাসন ব্যবস্থা এবং ভর্তুকিযুক্ত খাবারের সুবন্দোবস্ত।
ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রক শিক্ষার্থীদের তোলা বেশ কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা স্বীকার করে নিলেও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও হিংসার কড়া সমালোচনা করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ম্যাক্রোঁ সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বাড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।


