বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
শনিবার দিল্লিতে রাজপথজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন দমনপীড়ন এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা জানাল সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো। এক কড়া বিবৃতিতে পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ব্যাপক ভোটাধিকার হরণের কারণ হয়ে ওঠা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং জরুরি নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভকে স্তব্ধ করতে কেন্দ্র সরকার কার্যত ‘কারফিউ’ জারি করার নীতি গ্রহণ করেছে।
ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ, মেট্রো স্টেশন ও পরিবহন বন্ধ করার মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা সত্ত্বেও ভয়কে উপেক্ষা করে রাজপথে মানুষের ঢল নামায় মোদী সরকার যে চরম আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাম নেতৃত্ব।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে পা রাখতেও হল না, বিমান থেকেই আটক অভিজিৎ দীপকে; দিল্লি জুড়ে ধড়পাকড় চলছে, চড়ছে পারদ
যন্তর-মন্তর ও মিন্টো রোডে গ্রেপ্তারের সারণি
শনিবার বিক্ষোভ চলাকালীন রাজধানীর একাধিক স্থান থেকে সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা ও পলিটব্যুরো সদস্যদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ:
-
যন্তর-মন্তরে গ্রেপ্তার: আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানানোর সময় পার্টি জেনারেল সেক্রেটারি এমএ বেবি, পলিটব্যুরো সদস্য ও কেরালার বিরোধী দলনেতা পিনরাই বিজয়ন, প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন, এ বিজয়রাঘবন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে কে শৈলজা, পি কে শ্রীমতী, টমাস আইজ্যাক, কে এন বালাগোপাল, পি রাজীব ও জন ব্রিটাস-সহ একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হয়।
-
ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত রোড ও মিন্টো রোড মিছিলে গ্রেপ্তার: অন্যদিকে সুরজিৎ ভবন থেকে মিন্টো রোডের দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পলিটব্যুরো সদস্য বি ভি রাঘবুলু, অরুণ কুমার, বিজু কৃষ্ণন, মারিয়ম ধাওয়ালে এবং ত্রিপুরা ক্যাডারের প্রবীণ নেতা মানিক সরকার-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ প্রিজন ভ্যানে তোলা হল মমতাকে, প্রিজন ভ্যান স্টার্ট দিতেই চিৎকার, ‘অ্যাক্সিডেন্ট করে দেবে’, ব্যান্ডেড লাগালেন মুখেও
‘শক্তির মোহে কাপুরুষতার পরিচয়’: পলিটব্যুরোর তোপ
সিপিআই(এম) পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এ কে গোপালন ভবনের (পার্টি সদর দপ্তর) সামনে নজিরবিহীন পুলিশি নজরদারি ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন রাখা সত্ত্বেও এই প্রতিরোধ সমাবেশ আটকানো যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, অসংবিধানিক ক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শনের মোহে পড়ে বিজেপি সরকার চরম কাপুরুষতা এবং গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনার সম্পূর্ণ অক্ষমতাই তুলে ধরেছে। পুলিশি বলপ্রয়োগ করে রাজপথে নামা গণমানুষের কণ্ঠকে কখনোই দাবিয়ে রাখা যাবে না বলে সুর চড়িয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।


