মোঃ মাসুদ সরদার, বাংলাদেশঃ
শুক্রবার সন্ধ্যায় গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার পর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর পুজো অর্চনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব, যা ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। গত দু’বছরের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে এটিই প্রথম দুর্গাপুজো, যা ঘিরে দেশজুড়ে এক বিশেষ তাৎপর্য ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।
৩৪ হাজার মণ্ডপে উৎসবের আমেজ
বাংলাদেশজুড়ে এবার প্রায় ৩৪ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জেলা অঞ্চলগুলিতেও উৎসবের আবহে নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য বজায় রেখে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে হিন্দু-মুসলিম যৌথভাবে সম্প্রীতির বাতাবরণে উৎসব পালন করছেন।
নিরাপত্তার দায়িত্বে সাড়ে তিন হাজার কোস্ট গার্ড
উৎসব চলাকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মহম্মদ মঈনুল হাসান ঢাকার মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তার বিস্তারিত রোডম্যাপ তুলে ধরেন:
বিশেষ মোতায়েন: উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
জোনভিত্তিক নিরাপত্তা: কোস্ট গার্ডের ৪টি জোনের অধীনে মোট ৬১৫টি মন্দির ও পুজোমণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে—
দক্ষিণ জোন: ৩৭১টি মণ্ডপ
পশ্চিম জোন: ১৪৪টি মণ্ডপ
পূর্ব জোন: ৬৩টি মণ্ডপ
ঢাকা জোন: ৩৭টি মণ্ডপ
গোয়েন্দা নজরদারি ও বিসর্জনে প্রস্তুত ডুবুরি দল
কোনো উসকানিমূলক বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নির্ধারিত স্থানগুলিতে বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জরুরি সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সচল থাকছে কোস্ট গার্ডের বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ১৬১১১। সম্প্রীতি বজায় রেখে নিরাপদে উৎসব সম্পন্ন করাই এখন বাংলাদেশ প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।


