Sunday, 18 October, 2026
18 October
HomeকলকাতাChorbagan Stampede: গিরিশ পার্ক থানার সামনে বিরল রাজনৈতিক দৃশ্য! একই সময়ে উড়ল...

Chorbagan Stampede: গিরিশ পার্ক থানার সামনে বিরল রাজনৈতিক দৃশ্য! একই সময়ে উড়ল তিন পতাকা; চোরবাগানের ঘটনার পর গিরিশ পার্ক থানায়

বিরল রাজনৈতিক ছবি। এক পংক্তিতে দাঁড়িয়ে তিন দল। থানার সামনে উড়ছে তিন দলের পতাকা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:

মহাসপ্তমীর রাতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও বিরল রাজনৈতিক ছবি সামনে এল। এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রশাসনের চরম অব্যবস্থা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে গিরিশ পার্ক থানার সামনে একই সময়ে সমবেত হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল একাধিক রাজনৈতিক দল। একই থানার সামনে এক পংক্তিতে দাঁড়িয়ে বাম, কংগ্রেস এবং শাসকদলের একাংশের এই উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ওরা কাল ছিল, আজ আর নেই; ‘শারদীয়া’ উৎ ‘শব’ -এর বাংলায় স্বাগত

গিরিশ পার্ক থানার সামনে জমায়েত ও রাজনৈতিক সমীকরণ

ঘটনার দিন রাতে ও পরের দিন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন গিরিশ পার্ক থানার সামনে হাজির হন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। একদিকে যখন উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন, ঠিক তখনই থানার ঠিক বাইরে কিছুটা দূরেই প্রতিবাদে বসে থাকতে দেখা যায় বিশিষ্ট সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষকে। আর তাঁদের কাছাকাছিই কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। থানার সামনে একই সঙ্গে একাধিক দলের পতাকা ও কর্মীদের উপস্থিতি এক বিরল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

তিন দল কি যৌথভাবে আন্দোলনে নেমেছে? এই প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান যে তাঁরা পৃথক পৃথকভাবেই বিক্ষোভ দেখাতে এসেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হবে এবং প্রতিটি দল সেটাই মনে করে এখানে এসেছে।

কুণাল ঘোষের মতে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিগুলি যেকোনো জনস্বার্থের ইস্যুতে একসঙ্গে আওয়াজ তুলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে তিনি সাফাই দিয়ে এও জানান যে তাঁরা মৃতদের মৃত্যু নিয়ে কোনো রকম রাজনীতি করতে চান না, কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার প্রতিবাদ অবশ্যই হবে।

আরও পড়ুনঃ  এখানেও ভাইপো সংস্কৃতি! চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের দায় কার? উৎসবের ভিড়ে প্রাণ হারানোর জবাব চায় বাংলা

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যঙ্গ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই দলগুলি যৌথভাবে কোনো প্রতিবাদ করছে কি না, তখন তিনি কটাক্ষ করে বলেন, গিরিশ পার্ক থানার একটি মাত্র প্রধান গেট রয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে সবাইকে একসঙ্গে বিক্ষোভ দেখাতে হচ্ছে। থানায় যদি তিনটি আলাদা গেট থাকত, তবে হয়তো তিনটি দল আলাদা আলাদা জায়গায় বিক্ষোভ দেখাত।

বিজেপির কড়া সমালোচনা

এই বিরোধী দলগুলির থানা ঘেরাও ও যৌথ অবস্থানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বলেন, একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি মানুষের শোক নিয়ে যেভাবে সুযোগসন্ধানী রাজনীতিতে নেমে পড়েছে, সেই শকুনের রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

চোরবাগানের এই ভয়াবহ বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ বজায় রয়েছে, তেমনই এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি তরজা এবং থানার সামনে এই নজিরবিহীন জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন