আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরকারি পরিষেবায় অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল ইতালির শিল্প শহর মিলান। রবিবার বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি সংঘর্ষে সেখানে চরম অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
আরও পড়ুনঃ অল্পের জন্য রক্ষা, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে বাড়ির সামনে চলল গুলি
দোকানের কাচ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পিয়াজা দেল দুয়োমো চত্বরে মুখ ঢাকা কয়েকশো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে তাণ্ডব চালান। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সুরক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়েন, একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালান এবং রাস্তার আবর্জনার পাত্রগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। ঘটনার পর ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবারের আগের দিন অর্থাৎ শনিবারও মিলান ছাড়াও বোলোনিয়া, ব্রেশিয়া, বার্গামো এবং তুরিনের মতো একাধিক প্রধান ইতালীয় শহরে ব্যাপক হিংসা ছড়ায়, যার জেরে অন্তত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ও শিক্ষা-সহ মৌলিক সরকারি পরিষেবাগুলির বেহাল দশা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলেই এই নাগরিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ফ্রান্সের বিক্ষোভের স্মৃতি উসকে সামাজিক অসন্তোষ
ইতালির এই অশান্তির সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সরাসরি তুলনা টানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফ্রান্সেও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবা হ্রাসের অভিযোগে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। উভয় দেশেই মূল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর তৈরি হওয়া প্রচণ্ড আর্থিক চাপ।
জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি
মিলানসহ দেশের একাধিক শহরের এই অনভিপ্রেত হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং জনগণের আর্থিক ক্ষোভ প্রশমনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার মেলোনি সরকার এক জরুরি বৈঠকে বসছে।
আগামী বছর ইতালিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলায় এই প্রতিবাদ আন্দোলন প্রতিহত করা এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


