বিশেষ প্রতিবেদন:
বিজয়া দশমীর আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হওয়ার এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর। দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় হাই-টেনশন বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে এসে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত নয়জন। বুধবার বিকেলে গোরক্ষপুরের গুলরহিয়া থানা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিআরডি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
গোরক্ষপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপক মিনা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বুধবার বিকেলে একটি ট্রলিতে করে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন পুজো কমিটির আয়োজক ও ভক্তরা। গন্তব্যের দিকে যাওয়ার পথেই ট্রলির সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি লম্বা ধাতব রড ওপরের একটি ঝুলন্ত হাই-টেনশন বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে চলে আসে। এর জেরে মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক প্রবাহ পুরো ট্রলিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ট্রলিতে থাকা সকলে একসঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
নিহতদের পরিচয় ও শোকের ছায়া
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন যুবকের প্রাণ গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতদের নাম— চন্দন, লাকি এবং ভিকি। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ১৭ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে দু’জন একই পরিবারের সদস্য। এই আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে মৃতদের পরিবার সহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘যেভাবে পেরেছে কেটেছে’ দশমীর সন্ধ্যায় মালদহের ইংরেজবাজারে বিজেপি কর্মীকে খুন; থমথমে ইংরেজবাজার
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ওই দিন বিকেল ৩টে পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার ঠিক পরেই আয়োজকরা প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের মিছিলে রওনা হন। ট্রলির ধাতব রডটি যে কখন ওপরের হাই-টেনশন তারের সংস্পর্শে চলে এসেছে, তা তাঁরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং পুরো ঘটনাটির প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।


