Friday, 23 October, 2026
23 October
HomeদেশECI: নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুই কমিশনারের অভিযোগ; পদক্ষেপ গ্রহণে অস্বীকার ক্যাবিনেট...

ECI: নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুই কমিশনারের অভিযোগ; পদক্ষেপ গ্রহণে অস্বীকার ক্যাবিনেট সচিবালয়ের

এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের গভীর ফাটল ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বাকি কমিশনারদের নজিরবিহীন মতবিরোধই কি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল না?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রতিবেদন:

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে চলতে থাকা অভূতপূর্ব প্রশাসনিক কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এবার এক নতুন মোড় নিল। কমিশনেরই এক অত্যন্ত সিনিয়র আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিত অভিযোগ জানালেও, সেই বিষয়ে কোনো প্রকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে সাফ অস্বীকার করল কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবালয়। সচিবালয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দুই নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই চিঠি পাঠিয়েছিলেন; ফলে সেটিকে পুরো নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিত্বমূলক বা প্রাতিষ্ঠানিক সরকারি চিঠি হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়। ফলে বিষয়টিতে আপাতত কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ ‘ভোটচুরি’-আন্দোলনে বিদেশি যোগসূত্র! ফক্স নিউজ়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট

তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনে ফাঁস হওয়া চাঞ্চল্যকর নথি

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর (PTI) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কমোডর লোকেশ কে বাত্রার দায়ের করা একটি আরটিআই (RTI) আবেদনের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয়ের এই বিস্ফোরক অবস্থান সামনে এসেছে।

ক্যাবিনেট সচিবালয় তাদের অফিসিয়াল নোটে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা যৌথ সর্বসম্মত চিঠি পাঠানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে কোনো পদক্ষেপ করা হলে, তা একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজকর্মে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই কারণেই আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা মেনে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন সিনিয়র ডেপুটি কমিশনার মনীশ গর্গ

প্রকাশিত নথি থেকে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী সরাসরি ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে পৃথকভাবে দুটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সিনিয়র ডেপুটি কমিশনার মনীশ গর্গের একতরফা কাজকর্ম ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

কমিশনারদের মূল অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্য বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা বা পরামর্শ না করেই মনীশ গর্গ একাই সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, ডিরেক্টর জেনারেল এবং সমমর্যাদার শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও কাজের বণ্টনে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  রাহুলকে ‘ফেলড প্রোডাক্ট’ বলে কটাক্ষ মোদির

ক্যাবি সংকেত ও উঠছে জোরালো প্রশ্ন

ক্যাবিনেট সচিবালয় অবশ্য স্বীকার করেছে যে, দুই কমিশনারের পাঠানো চিঠি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু যেহেতু তা কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক মতামত নয়, তাই সচিবালয় চিঠি দুটির কেবল প্রাপ্তিস্বীকার করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রিন্সিপাল প্রাইভেট সেক্রেটারির কাছে চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে মনীশ গর্গ সংক্রান্ত কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারি নথিতে নথিভুক্ত রাখা হলো।

তবে ক্যাবিনেট সচিবালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান না খুঁজে, দুই নির্বাচন কমিশনার কেন নিজের সংস্থাকে এড়িয়ে সরাসরি ক্যাবিনেট সচিবের দরবারে পৌঁছালেন? এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের গভীর ফাটল ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বাকি কমিশনারদের নজিরবিহীন মতবিরোধই কি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল না?

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন