বিশেষ প্রতিবেদন:
শারদোৎসবের দিনগুলি মিটতেই রাজ্যে শুরু হয়ে গেছে আসন্ন পুরসভার নির্বাচনী বাদ্যি। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটাই হতে চলেছে প্রথম বড় মাপের পুরভোট। তাই প্রার্থী চয়ন থেকে শুরু করে দলবদলের জল্পনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার রাজপথ। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ৩ পরিচিত নারী মুখ—অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাসের বিজেপি যোগ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। তবে এই সমস্ত দলবদলের জল্পনা এক ধাক্কায় পত্রপাট উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোটচুরি’-আন্দোলনে বিদেশি যোগসূত্র! ফক্স নিউজ়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট
“তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলর বিজেপির টিকিট পাবেন না”: শমীক ভট্টাচার্য
বৃহস্পতিবার কাশিপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির সঙ্গে টালা প্রত্যয়ের পুজো মণ্ডপে বিজয়া পর্বের সৌজন্য বিনিময়ে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তৃণমূলের এই ৩ নেত্রীর গেরুয়াশিবিরে যোগদান প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জবাব দেন।
শমীক জানান, “তৃণমূলের কোনো কাউন্সিলরকেই বিজেপির টিকিট দেওয়া হবে না।” পাশাপাশি তাঁদের উদ্দেশ্যে সৌজন্যমূলক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ওঁদের বিজয়ার শুভেচ্ছা। এ রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে নির্বাচনে জয়ী করে নতুন সরকার এনেছে। আমরা শুধু জামা বা দলের পরিবর্তন চাই না, ভেতরের মানসিকতার পরিবর্তন দেখতে চাই।”
আরও পড়ুনঃ রাহুলকে ‘ফেলড প্রোডাক্ট’ বলে কটাক্ষ মোদির
অন্যদিকে বিজয়া দশমীর দিন থেকেই বিরোধী শিবিরের দিকে জোরালো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধান বিরোধী শিবিরকে তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, এক শিবিরের অন্তত ৬৪ জন বিধায়ক সুযোগ পেলেই পদ্মশিবিরের সমর্থনে হাত তোলার জন্য তৈরি হয়ে বসে আছেন।
নিজের এই দাবির পক্ষে বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “টক-শোয়ের এক তথাকথিত বিজ্ঞ-জ্ঞানী তো বলেছিলেন বিজেপি নাকি ১৫০ আসনে লড়ছে! অথচ এখন বিধানসভায় বিজেপির আসন তো ২০৯ ছাড়িয়ে গেছে। এবার যদি বিধানসভায় কোনো ফ্লোর টেস্টের মুখোমুখি হতে হয়, তবে আমাদের সমর্থনে অন্তত ২৭৫ জন হাত তুলবেন।” ফলে পুরভোটের দামামা বাজার সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতিতে আবার জমে উঠেছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তীক্ষ্ণ কাদা ছোড়াছুড়ি।


