২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গের তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের আভাস। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা তৃণমূলের বিদায়ী চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী।
মঙ্গলবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে সৌরভ লিখেছেন, “আলিপুরদুয়ার জেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যিনি প্রায় ২০০ কোটি টাকার টেন্ডার হাতিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বেই এবার ভোট করুন।” নাম না করে এই ‘তীর’ যে জেলার প্রভাবশালী এক ঠিকাদার-নেতার দিকে, তা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ কোমর বেঁধে লড়াইয়ে নামল দীপঙ্করের CPI(ML) লিবারেশন
কেন এই ক্ষোভ?
তৃণমূল এবার আলিপুরদুয়ার থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি থেকে আসা বর্তমান বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকে। ২০২১ সালে সুমনের কাছেই হেরে গিয়েছিলেন সৌরভ। এবারও তাঁকে টিকিট না দিয়ে সুমনের ওপর আস্থা রাখায় দলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষ ফেটে পড়েছে।
সৌরভের পোস্টে পরোক্ষে দলের দুর্নীতি ও ঠিকাদারি রাজনীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, উন্নয়নের নামে যিনি বিপুল টেন্ডার নিয়েছেন, তাঁরই নেতৃত্বে ভোট হলে দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ল
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই আলিপুরদুয়ার শহর ও গ্রামাঞ্চলে একটাই আলোচনা— তৃণমূলের অন্দরে এবার কি বিদ্রোহের আগুন আরও ছড়াবে? জেলা নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত সৌরভের পোস্ট নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। কিন্তু দলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের পোস্ট ভোটের মুখে তৃণমূলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
বিজেপি নেতা সুমন কাঞ্জিলালকে প্রার্থী করায় শাসক দলের কোন্দল যে চরমে পৌঁছেছে, তা আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “দলের পুরনো কর্মীদের উপেক্ষা করে বাইরের লোককে টিকিট দেওয়া হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নতুন চমক সুপ্রিমোর; টিকিট পেলেন শ্রেয়া-কুণালরা
বাংলার রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ছবি
আলিপুরদুয়ারের এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরে কোথাও কোথাও চাপা অসন্তোষ ফুঁসছে। কালীগঞ্জে সিপিএমের অফিস ভাঙচুরের পর আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের এই ফাটল আরও একবার প্রমাণ করল যে, প্রার্থী ঘোষণার পর দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
(প্রতিবেদনটি স্থানীয় সূত্র, ফেসবুক পোস্ট ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে বঙ্গবার্তা তৈরি করেছে।)







