হোলির আগে বাড়ি ফেরার তাড়ায় যাত্রীদের পকেটে আগুন লাগছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ, বিশেষ করে ২৮ তারিখ ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমানের ভাড়া হু হু করে বেড়েছে। বহু ট্রেন আগেই পূর্ণ, কোথাও সংরক্ষণই বন্ধ। ফলে আকাশপথই ভরসা – আর সেই সুযোগেই ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ।
আরও পড়ুনঃ প্রার্থী হতে ভিড় তৃণমূলে প্রথম দফাতেই ড্রপবক্সে ১৬০০ আবেদন
পরিসংখ্যান বলছে, কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে ১৫৮ থেকে ১৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। যে টিকিট মার্চের শেষ সপ্তাহে তিন হাজার টাকার আশপাশে মিলছে, সেটিই হোলির আগে দশ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিছু রুটে একমুখী ভাড়া পৌঁছে গিয়েছে প্রায় কুড়ি হাজার টাকায়।
সুপ্রিম কোর্টও এই টিকিটের মূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ কেন্দ্রকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলেছে, যাত্রীদের স্বার্থে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী শুনানি ২৩ মার্চ, অর্থাৎ উৎসবের ভিড় কাটার পরে। ফলে তাৎক্ষণিক স্বস্তির সম্ভাবনা নেই।
ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট দিল্লি, মুম্বই ও বেঙ্গালুরু থেকে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের শহরগুলিতে। বেঙ্গালুরু-গোরখপুর রুটে ২৮ ফেব্রুয়ারির ভাড়া ১৯,৫৮৯ টাকা, যা এক মাস পরে নেমে আসে প্রায় সাত হাজারে। দিল্লি-পাটনা রুটে ভাড়া ১১,০৫৬ টাকা থেকে কমে দাঁড়ায় ৪,৫০২ টাকায়। একই প্রবণতা দিল্লি-গয়া, দরভাঙা ও পূর্ণিয়ার ক্ষেত্রেও।
আরও পড়ুনঃ এবার বিধানসভার টিকিট পাকা! রেড ভলেন্টিয়ারের কাছ থেকে উপকার পাওয়া অপরাজিতা কি এবার ভোটের ময়দানে?
দিল্লি-কলকাতা রুটেও প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি। ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ৯,৯৮৯ টাকা, মার্চের শেষে ৪,৭৯৯। বেঙ্গালুরু-কলকাতা রুটে ভাড়া ১২,৪১২ টাকা থেকে নেমে আসে ৬,৬৬০ টাকায়। মুম্বই-প্রয়াগরাজ রুটে ১৬,১৮৮ টাকা থেকে কমে ৬,৫৮৮।
বিমান সংস্থাগুলি চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের নীতি মেনে চলে। আসন পূর্ণ হতে থাকলে দাম বাড়ে, যাত্রার দিন যত এগোয়, ভাড়াও তত চড়ে। অনেক রুটে প্রতিদিন মাত্র এক বা দু’টি উড়ান থাকায় চাপ আরও বাড়ে।
গত বছর দীপাবলির আগে অতিরিক্ত উড়ান চালু হয়েছিল। বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ভাড়ার প্রবণতা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। তবু বাস্তব বলছে, আগাম টিকিট কাটা ছাড়া উপায় নেই। যারা দেরি করেছেন, তাঁদের জন্য এবারের বাড়ি ফেরা যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ।









