মহাকালের পবিত্র নগরী উজ্জয়িনীতে একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জাফর খান নামে এক যুবককে হিন্দু মহিলার সঙ্গে হোটেলের ঘরে ধরা পড়েছে। সে সাধুর ছদ্মবেশে মাথায় ত্রিপুন্ড তিলক, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, গেরুয়া রঙের ধুতি পাঞ্জাবি পরে হিন্দু ভক্তের মতো ঘুরছিল। হোটেলে কমরা বুক করার সময় মহিলার আইডি কার্ড ব্যবহার করেছিল। প্রথমে নিজেকে হিন্দু বলে দাবি করলেও, বজরং দলের কর্মীদের প্রশ্ন ও চাপে তার আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ভারতে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে হিন্দু পুলিশ খুনে অভিযুক্ত জুলাই জঙ্গি মাহদি
ঘটনাটি সোমবার রাতে নানাখেড়া এলাকায় ঘটে। সূত্র অনুসারে, জাফর খান মোহালি (চণ্ডীগড়) থেকে এই হিন্দু মহিলার সঙ্গে উজ্জয়িনী এসেছিল। তারা মহাকাল মন্দির, কাল ভৈরব মন্দির এবং হরসিদ্ধি মন্দিরের দর্শন করেছিল। হোটেলে চেক-ইনের সময় জাফর নিজের আইডি না দিয়ে মহিলার আইডি কার্ড ব্যবহার করে কামরা নেয়। হোটেল কর্মীরা সন্দেহ করলে বজরং দলকে খবর দেয়। কর্মীরা হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করে জাফরকে ধরে ফেলে।
প্রশ্নোত্তরে জাফর প্রথমে হিন্দু নাম বলে এবং দাবি করে যে সে শিবভক্ত। কিন্তু সখ্তি করলে সে স্বীকার করে যে তার নাম জাফর খান এবং সে মুসলিম। বজরং দলের কর্মীরা তাকে মারধর করে এবং পরে নানাখেড়া থানায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে যে জাফরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করা, আইডি মিসইউজ এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। উজ্জয়িনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুরু প্রসাদ পরাশর বলেন, “দুজন মোহালি থেকে এসেছিলেন এবং হোটেলে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে শীতের ছোঁয়া; সকালে শীতের আমেজ বেলায় বাড়বে বঙ্গের উত্তাপ
বজরং দলের কর্মীরা তাদের ধরে ফেলে। আমরা তদন্ত করছি।”এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জাফরের মাথায় ত্রিপুন্ড, গলায় রুদ্রাক্ষ মালা এবং সে নিজেকে শিবভক্ত বলে দাবি করছে। অনেকে এটাকে ‘লাভ জিহাদ’-এর উদাহরণ বলে বর্ণনা করেছেন। বজরং দলের নেতারা বলছেন, উজ্জয়িনীর মতো পবিত্র স্থানে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা অসহ্য।
তারা হোটেলগুলোকে আইডি চেকিংয়ে কড়াকড়ি করার দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন যে ব্যক্তিগত সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়, কিন্তু ছদ্মবেশ ও আইডি মিসইউজ অপরাধ। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে দুজনের সম্পর্ক কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না। উজ্জয়িনীতে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, যেখানে পরিচয় গোপন করে দর্শনার্থীদের সঙ্গে মেলামেশা করার চেষ্টা হয়েছে।









