আড়াই দশক পর বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে চলেছে বিএনপি পর্যন্ত বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয়লাভ করেছে।। সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১ আসনে বিজয়। বিএনপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত জোট জয়লাভ করেছে ৭০ টি আসনে। অন্যান্যরা জয়ী হয়েছে ছয়টি আসনে।
আরও পড়ুনঃ জাদুসংখ্যার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে বিএনপি, গর্জালেও ভোটে বর্ষাল না জামাত!
নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করে উঠতে পারেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন রিটানিং অফিসাররা লিখিতভাবে কমিশনকে ফলাফল না জানালে তারা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই সংঘটিত হয়েছিল গণভোট। গণভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিজয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ সংবিধান প্রশাসন বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদিতে ব্যাপক সংস্কারের পক্ষেই সাঈ দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ভোটের কুড়ি লাখ পঞ্চাশ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার। ‘না’ ভোটে সায় দিয়েছেন ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৮। হলে বাংলাদেশের শুধু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে তাই নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও দেশটি আমুল বদলে যেতে পারে। তবে গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার হওয়ার কথা সেগুলি হবে কিনা তা অবশ্যই নির্ভর করবে নতুন সংসদ এবং ক্ষমতাসীন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপির সংস্কার প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তির কথা নথিভুক্ত করে রেখেছে।
বিএনপি তাদের প্রত্যাশা মতই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় সরকার গঠন নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা রইল না। ভোটের আগে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছিল। করে স্বয়ং জামায়াতের আমির জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় এই জল্পনার সূত্রপাত হয়। তবে ভোটের তিন দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা খারিজ করে দেন। তারেক তাঁর বগুড়া এবং ঢাকা দুটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ উত্তেজনা আর প্রত্যাশায় ভরা, ইসলামিক রাষ্ট্র স্বপ্নই? ধরাশায়ী জামাতের শফিকুর
অন্যদিকে জামাইটি ইসলামী এখনো পর্যন্ত ৭০টি আসন পেলেও স্পষ্ট তাদের প্রাপ্ত আসন ১০০ ছাড়ানো কঠিন। মনে করা হয়েছিল একশোর বেশি আসন পেয়ে জামাত শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হবে। তবে প্রত্যাশামত আসন না পেলেও জামাতের শক্তি বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে। শেষবার তাদের ভালো ফল ছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে। এবার তারা পেয়েছিল ১৭ টি আসন। তবে সেই ফলাফল ছিল বিএনপির সঙ্গে জোট করে। এবার জামাত ১১টি দলের জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের অতীত ফলাফল বিচারে করলে জামাইতে ইসলামীর যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের খবর জামাতের আসন প্রত্যাশা মত না হলেও তারা ভোট পেয়েছে বিপুল পরিমাণে। ফলে গোটা বাংলাদেশেই তাদের প্রভাব এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা তৈরি করে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তারেক রহমানের মা সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়া। এরপর তিনি আরো দুবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লিগ। সেই নির্বাচনে প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শেষবার পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিল বিএনপির শেষ সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা। এরপর দু’বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৮-এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় হাসিল করে ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লিগ। সেই থেকে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। এরপর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে থাকা বাংলাদেশ এবার নির্বাচিত সরকারের হাতে ফিরতে চলেছে।









