কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বৃদ্ধ হলেও বাঘ তো! তাই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সম্রাটের পায়ের নখ কাটতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও বন দফতরের৷ আবার নখ কাটা ছাড়া আর কোনও উপায়ও ছিল না৷ কারণ, বয়সের ভারে শিকার করার ক্ষমতা হারিয়েছে সম্রাট। বার্ধক্যের কারণে চলাফেরাও একপ্রকার দায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সামনের পায়ের নখ বাড়তে বাড়তে তা বেঁকে ঢুকে গিয়েছিল থাবার ভিতর। যে কারণে এক পাও চলতে পারছিল না সম্রাট।
তাই প্রায় এক যুগ পর সম্রাটের পায়ের নখ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর জন্য ব্যবস্থা করা বিশেষ খাঁচার৷ সেই খাঁচার মধ্য়ে রেখেই গত নখ কাটা হয় সম্রাটের৷
আরও পড়ুনঃ বাড়িতে দেহ বাবার, শিক্ষা-জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিলো সবংয়ের মধুমিতা
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সম্রাটের বয়স 20 বছর৷ ঠিকানা দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক বা দার্জিলিং চিড়িয়াখানা৷ প্রায় তিন বছর বয়সে এই বাঘটিকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন থেকে চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সম্রাট। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রমশ চলার শক্তি হারিয়ে ফেলে এই বাঘটি৷ গত কয়েক বছর ধরে বলা চলে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার মতো দিন কাটাচ্ছে সম্রাট। বাঘটিকে আর সাফারির জন্য এনক্লোজারে ছাড়া হয় না। নাইট শেল্টার ও ক্রালেই দেখাশোনা করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নখ না-কাটায় সম্রাটের সামনের পায়ের নখ বেঁকে থাবার মধ্যে ঢুকতে শুরু করে। যে কারণে চলাফেরা পর্যন্ত করতে কষ্ট হচ্ছিল সম্রাটের। এক জায়গায় বসেই থাকতে হচ্ছিল এই পশুটিকে। মুখের সামনেই খাবার তুলে দিতে হচ্ছিল চিড়িয়াখানার কর্মীদের।
একদিকে বয়সের ভার৷ তার উপর পায়ের এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছিল। প্রভাব পড়ছিল সম্রাটের শরীরের উপরেও। তাই দায়িত্ব নিয়েই সম্রাটের পায়ের নখ কাটার উদ্যোগ নেন চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর অরুণকুমার মুখোপাধ্যায়। জু অথরিটির সঙ্গে আলোচনার পর যোগাযোগ করা হয় কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার ২ প্রান্ত জুড়বে! চিকেনস নেকের কাছে মাটির নীচে ৪০ কিলোমিটার রেললাইন পাতার পরিকল্পনা ভারতের
তবে সম্রাটের বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে বাঘটিকে ট্রাঙ্কুইলাইজ করা বা এনাস্থেশিয়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, এতে সম্রাটের প্রাণের ঝুঁকি তৈরি হতো। সেই জন্য চিড়িয়াখানায় তৈরি করা হয় স্কুইজ খাঁচা। যে খাঁচায় প্রবেশ করার পর নড়াচড়ার বিশেষ জায়গা পায় না পশুরা৷ তাই এই স্কুইজ খাঁচায় ভরে নখ কাটেন পশু চিকিৎসকরা। বাঘের নখ কাটতে কলকাতা থেকে ছুটে আসেন প্রাণী চিকিৎসক প্রলয় মণ্ডল। ছিলেন দার্জিলিং চিড়িয়াখানার চিকিৎসকও। এক দশক পর নখ কেটে যেন স্বস্তি ফিরে পেল সম্রাট।
দার্জিলিং চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ”দশ বছর ধরে তার নখ কাটা হয়নি। নখ বেড়ে গিয়ে থাবার ভিতরে ঢুকে কাঁটার মতো ফুটছিল। চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায় বৃদ্ধ বাঘ সম্রাটের। তবে সুষ্ঠুভাবে নখ কাটা হয়েছে। এখন সে চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছে। ভালো রয়েছে। আমরা কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখব। এই বয়সে সম্রাটকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে নখ কাটতে হলে হিতে বিপরীত হতে পারত। এনাস্থেশিয়া প্রয়োগ করা ঝুঁকি ছিল। স্কুইজ খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। তারপর প্রাণী চিকিৎসকরা তার নখ কাটেন। নখ কাটার পর সেটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে সম্রাটের পিছনের ডান পায়েও একটি নখ থাবার ভিতরে ঢুকে রয়েছে। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, পিছনের থাবার নখটি ততটা বিপজ্জনক নয়। নখ কাটার এই ধকলটা সামলে উঠলে পরে ওই নখটিও কাটা হবে। সম্রাটের করুণ অবস্থার পর ওই চিড়িয়াখানার বাঘেদের নখের যত্ন নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাঝেমাঝে তাদের নখ যাতে ট্রিম করা হয় কিপার ও পশু চিকিৎসকদের সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।





