দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের পর থেকেই তদন্তকারীদের র্যাডারে রয়েছে আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি। মূল সন্দেহভাজন উমর উন নবি এই বিশ্ববিদ্যালয় কাম হাসপাতালেরই চিকিৎসক ছিল। এর মধ্যেই বুধবার ভোর রাতে হ্যাক হয়ে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। সেখানে ঢুকলে একটাই বার্তা ফুটে উঠছে, ‘র্যাডিক্যাল ইসলামিক জিহাদ চালাতে চাইলে পাকিস্তানে যান।’ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুনঃ চওড়া টাক, উসকোখুসকো চুল, উদ্ধত চালচলন! উত্তরবঙ্গের অন্ধকার জগতের রহস্যময় বেতাজ বাদশা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের দায় স্বীকার করে নিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান সাইবার অ্যালায়েন্স’ নামে একটি গোষ্ঠী। ওয়েবসাইটে তারা স্পষ্ট লিখে রেখেছে, ‘ভারতের মাটিতে চরমপন্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও জায়গা নেই। যদি এই দেশে থাকতে চান, তা হলে অন্যদের মতো শান্তিতে থাকুন। আর যদি র্যাডিক্যাল ইসলামিক জিহাদ চালাতে চান, তা হলে পাকিস্তানে চলে যান।’
এ পরেই হুঁশিয়ারির সুরে তারা বলে, ‘আপনাদের দেশবিরোধী কার্যকলাপের উপর আমাদের নজর আছে। এই সব বন্ধ করুন। না হলে ধ্বংস করে দেব।’ চরমপন্থীদের বার্তা দিতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
দিল্লি বিস্ফোরণের পরেই মঙ্গলবার সকালে আল ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে যান তদন্তকারীরা। ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। ফরিদাবাদের বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার এবং দিল্লি বিস্ফোরণ এক সুতোয় বাঁধা বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই এই সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন হরিয়ানা পুলিশ এবং দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের সদস্যরা। আটক করা হয় মুজাম্মিল শাকিল, উমর মহম্মদ ও শাহিন শাহিদ নামে তিন চিকিৎসকে।
আরও পড়ুনঃ ১৪ নভেম্বর বিহার ভোটের ফল; সমীক্ষায় এগিয়ে NDA, NDA-র ঘারে নিঃশ্বাস ফেলবে মহাগঠবন্ধন!
ফরিদাবাদে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে মুজ্জামিলের নাম উঠে আসে। তাঁর বাড়ি থেকেই বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। আর তাঁর সহকর্মী শাহিনের গাড়ি থেকে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। তার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের উপরে নাজর রাখতে শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। অভিযোগ, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে লজিস্টিক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আল ফালাহ। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে আরডিএক্স-সহ বিস্ফোরক পদার্থ তৈরি হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজসের অভিযোগ নতুন নয়। আগেও জইশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। তবে দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তকারীদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হ্যাকিংয়ের ঘটনার নিন্দা করে তাঁরা বলেন, ‘ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’









