ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রকাশ্যে এল। ভারতের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া পারস্পরিক ট্যারিফ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রফতানি আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মার্কিন সময় সোমবার সকালে ভারত ও আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানা গেছে। এই আলোচনার পরই ট্যারিফ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “CEC আমাদের কথা শোনেননি, আমরা বয়কট করে চলে এসেছি”; তবে কি মমতার ভোট বয়কট!
নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ভারতীয় পণ্যের ওপর এখন থেকে ১৮ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে আরও ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানোর দিকেও আলোচনা এগোচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কিছু বাণিজ্যিক জটিলতা মেটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে। ভারতের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম বজায় রাখা সহজ হবে, ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় রফতানিকারকদের সুযোগ বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত জ্বালানি ও প্রযুক্তি পণ্যের আমদানি আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই পরিবর্তন দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বাণিজ্য মহলের একাংশের মতে, ট্যারিফ কমালেই সব সমস্যা মিটবে না। বাস্তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাণিজ্য চুক্তি হয় এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
বর্তমানে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব ফলাফল কী দাঁড়ায়, সে দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।





