রাজস্থানের জয়পুরের গণেশ নগর এলাকায় একটি শিবমন্দিরে লাউডস্পিকারে আরতি ও ভজন বাজানোকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধ পুরোহিতকে নির্মমভাবে প্রহার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলা; পশ্চিম রাখাইনের বাজারে মৃত্যুমিছিল
ঘটনা ও পুলিশের পদক্ষেপ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময়ে মন্দিরে সান্ধ্য আরতি ও ভজন গান চলছিল। অভিযোগ, মন্দিরের ঠিক পাশের বাসিন্দা হরিশ চতুর্বেদী, তাঁর ছেলে দেবাংশ ও পরিবারের সদস্য রিতু চতুর্বেদী লাউডস্পিকারের বিকট আওয়াজ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান এবং পুরোহিতের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন।
-
ভিডিওতে হিংসার চিত্র: নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বচসা চলাকালীন বৃদ্ধ পুরোহিতকে টেনে নিচে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি লাথি ও ঘুষি মারা হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
-
গ্রেফতার ও পাল্টা অভিযোগ: ভিডিও ফুটেজের সত্যতা যাচাইয়ের পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল দুই অভিযুক্ত হরিশ চতুর্বেদী ও দেবাংশকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পরিবারের তরফেও পুরোহিত ও মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ফ্যাক্ট-চেক ও ছড়ানো গুজবের অবসান
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু ভুয়া খবর ছড়াতে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হতে থাকে যে, পুরোহিত নাকি কোনো মহিলার শ্লীলতাহানি করেছিলেন এবং তার জেরেই এই মারধর।
তবে তথ্য যাচাইকারী সংস্থাসমূহ (Fact-Checkers) এবং স্থানীয় পুলিশ তদন্তের পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শ্লীলতাহানির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া। কেবল মাত্র লাউডস্পিকারে ভজন বাজানোর শব্দ সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত।
আরও পড়ুনঃ ট্রাম এর পর ফিরছে অ্যাম্বাসেডর! স্মৃতির নস্টালজিয়া নিয়ে ফিরছে ‘ই-অ্যাম্বাসেডর’
উদ্বেগ ও জনমত
এই ঘটনার পর থেকে একদিকে যেমন প্রবীণ পুরোহিতের ওপর শারীরিক অত্যাচারের প্রতিবাদে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, অন্যদিকে জনবহুল ও আবাসিক এলাকায় লাউডস্পিকারের শব্দসীমা নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রণ করার দাবিও নতুন করে তুলতে শুরু করেছেন অভিজ্ঞ মহল। নিখুঁত তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


