ক’দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রযোজিত ছবি ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’। ছবিতে লক্ষ্মী বারুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। আর সরকারি প্রতিনিধি সুজন সামন্তর ভূমিকায় অভিনয় করেন অঙ্কুশ হাজরা। নন্দনে সেই ছবির আনুষ্ঠানিক মুক্তির অনুষ্ঠানে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভোট মরশুমে টলিপাড়ায় এখন উড়ো খবর, এহেন প্রেক্ষাপট রচনার পর ‘লক্ষ্মী-ছেলে’ অঙ্কুশ এবার ভোটে প্রার্থী হতে পারেন তৃণমূলের।
হালফিলে অঙ্কুশের অভিনীত কোনও ছবি বক্স অফিসে খুব একটা ছাপ ফেলেনি। রক্তবীজ টু ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল ঠিকই, তবে আবীর চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সেই ছবির নায়ক। লক্ষ্মী এলো ঘরে ছবিটিও তেমন কোনও ছাপ ফেলেছে বলে শোনা যায়নি। তার সম্ভাবনাও হয়তো ছিল না। ছবিটা তৈরিই হয়েছিল ভোটের আগে সরকারি প্রচারের তাগিদে। সেই কারণেই ইউটিউবেও তা রিলিজ করা হয়েছে। সেখানে ২২ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, সত্যিই কি অঙ্কুশ রাজনীতিতে আসছেন? তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন? দেব ওরফে দীপক অধিকারী, সোহম চক্রবর্তীর মতই টলিপাড়ার আর এক নায়ককেও কি এবার দেখা যাবে দিদির পাশে পাশে হাঁটতে?
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দলের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কালীঘাটে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই অঙ্কুশের ব্যাপারটা খুব রটেছে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করতে শুরু করেছেন, বর্ধমান দক্ষিণ আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে অঙ্কুশকে।
তৃণমূলে এরকম উড়ো খবর যে সব সময়ে সত্যি হয় তা নয়। কারণ, প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে কী রয়েছে, তা দলের উপর তলার নেতারাই ঠাওর করতে পারেন না তো খবর বাইরে আসবে কীভাবে? তবে এও ঠিক যে, কিছু উপসর্গ দেখে ইদানীং আন্দাজ করা যায়। সরকারি ন্যারেটিভের ছবিতে নায়ক হওয়া অঙ্কুশকে নিয়ে অনেকটা সেরকমও হচ্ছে বৈকী।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দ্য ওয়ালকে অঙ্কুশ যা যা বলেন তাও মন দিয়ে শোনার মতো। কারণ অনেক সময়েই মন দিয়ে কথা শুনলে বিটুইন দ্য লাইনস বোঝা যায়। অঙ্কুশ বলেন,“আমাকে আমার দু-একজন বন্ধুবান্ধবও এ সব নিয়ে টেক্সট করছে। তবে আমার কাছে কোনও-ও ইনফরমেশন নেই। কেউ মানে কেউই কোনও অ্যাপ্রোচ করেননি। কোনও জায়গা থেকে কোনও পার্টি কেউ কিচ্ছু জানায়নি”।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রতীক’ হারাচ্ছে প্রাক্তন শাসক! টিউশন টিচারের পরামর্শে চলছেন প্রতীক উর
এমনিতে সব যদির উত্তর হয় না। ব্যাপারটা পুরোপুরি হাইপোথেটিকাল হলে তো নয়ই। তবে এ প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, “সত্যি কথা বলতে আমি এটা নিয়ে কিছুই ভাবিনি। ভাবনার মধ্যে পুরোটাই রয়েছে সিনেমা। সিনেমা নিয়ে ঘেঁটে আছি। এরপরে কী করব না করব। টিকিট পাওয়া নিয়ে কিছু ভাবিইনি”।
তাঁর কথায়, “তবে বিষয়টা মজার। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করছে এটা কী ব্যাপার। কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এটা চালু। কিন্তু আমি ঠিক জানি না কী বেরোচ্ছে না বেরোচ্ছে। বন্ধুরা পাঠাচ্ছে বলেই জানতে পারলাম। আমি ওদেরও জানালাম, আমার কাছে কোনও ইনফরমেশন নেই”।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অতীতে বাম জমানাতেও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ভোটে শাসক দলের প্রার্থী হয়েছেন। তবে তৃণমূল জমানায় ব্যাপারটা যেরকম মুড়ি-মুড়কির মতো হয়ে গেছে, তাতে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। কারণ, তৃণমূলের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও টলিপাড়ার ডজন ডজন মুখ আকছার দেখা যায়। এমনিতেই তো তাপস পাল, শতাব্দী রায়, দেব, সোহম, কাঞ্চন মল্লিক, রাজ চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, পার্নো মিত্র, সায়নী ঘোষ, সায়ন্তিকা চক্রবর্তী, কৌশানী, মিমি চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মায় লম্বা তালিকা। তার উপর জুড়তেই পারে এক আধটা আরও নাম।
আবার কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের কথায়, এ ব্যাপারে দিদির একটা ফর্মুলা রয়েছে। তা হল কোনও কঠিন আসনে যদি উপযুক্ত মুখ না পাওয়া যায় তখন টলিপাড়া থেকে কাউকে এনে তিনি প্রার্থী করে দেন। আবার যদি দেখা যায়, একটা আসনে টিকিটের জন্য স্থানীয় অনেক দাবিদার রয়েছেন, তাহলেও টলিপাড়া থেকে কাউকে প্রার্থী করে দেওয়া হয়। অঙ্কুশের নাম কোন ফর্মুলায় উঠে এসেছে, সেটাই প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, গত ভোটে বিজেপিও এই স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। যশ দাশগুপ্ত, শ্রাবন্তী যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তার পর হেরে টেরে ফিরে গেছেন যে যাঁর বাড়িতে। প্রার্থী না হলেও রুদ্রনীল ঘোষ একমাত্র ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলছেন। তবে এই ভোটে সিনেমা-টিনেমার দিকে বিশেষ একটা তাকাচ্ছে না বিজেপি। এখনও পর্যন্ত সেটাই নাকি অবস্থান। তালিকা প্রকাশ হলে তবেই সবটা বোঝা যাবে।









