বাজারে শয়ে শয়ে মানুষ উপস্থিত থাকলেও আতঙ্কে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রানা প্রতাপের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রানা প্রতাপ বৈরাগী নিজেকে নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলে পরিচয় দিতেন। তবে ওই পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রানার সঙ্গে তাঁদের পত্রিকার কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে।
এদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, এক সময়ে রানা প্রতাপ নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অতীতে চরমপন্থী কার্যকলাপে তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) আবুল বাশার এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি রানা প্রতাপ চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনও চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই এই খুন হয়েছে।” তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে এবং সব তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ আমতলীতে কম্পিউটার গাড়ি’তে প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ
এই ঘটনায় বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে জনসমক্ষে গুলি করে খুন করার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগেই ৩ জানুয়ারি যশোরের শঙ্করপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটল।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বারবার এমন হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বাজার, রাস্তা কোনও জায়গাই আর নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরমপন্থী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এই সব মিলিয়ে রানা প্রতাপ বৈরাগীর হত্যা আরও একবার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।









