বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে বুধবার কার্যত অচল হয়ে গেল স্বাস্থ্যভবন চত্বর। ১৬ দিনের কর্মবিরতির পর এবার সরাসরি স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচিতে নামলেন আশা কর্মীরা। সকাল থেকেই সল্টলেকের সেক্টর ৫ এলাকায় জমায়েত শুরু হয়। বেলা বাড়তে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যভবনের মূল গেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ মালদহে বিএলও-র মৃত্যু! এসআইআরের কাজের চাপকে দুষছে মৃতার পরিবার
একাধিক দায়িত্ব কাঁধে অথচ মাসিক আয় অত্যন্ত কম, এই অভিযোগই মূলত আন্দোলনের কেন্দ্রে। আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। সেই কারণেই ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ চালুর দাবিও রয়েছে আন্দোলনকারীদের।
আন্দোলনরত আশা কর্মীদের অভিযোগ, সরকার একদিকে তাঁদের ব্রেস্ট ফিডিং নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতে বলে, অথচ নিজেরাই মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। এমনকী কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে পরিবার কোনও আর্থিক সহায়তাও পায় না।
এখানেই শেষ নয়, করোনার সময় যে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা এখনও অনেকে পাননি। এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কাজ করতে হলে যে খরচ হয়, তাও আসেনি অ্যাকাউন্টে।
আরও পড়ুনঃ মাঝরাতে মসজিদ চত্বরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি! রণক্ষেত্র রাজধানী
এদিন স্বাস্থ্যভবনের সামনে ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে আশা কর্মীদের একাংশ। পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায়। ধস্তাধস্তি, স্লোগান আর জমায়েতে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। আন্দোলনের জেরে সেক্টর ৫ এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরাও।
আজই রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম-এর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকের আগেই আশা কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করায় বৈঠক এখন বিশ বাঁও জলে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হয়, সেটাই এখন দেখার।









