দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা এলাকায় রামকৃষ্ণপুর অঞ্চলের সিঙ্গির হাট মোড়ে অবস্থিত এক বজরংবলী মন্দিরে ভাঙচুর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও । বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছেন “মৌলবাদী হামলার ফলেই বজরংবলীর মূর্তির মাথা কেটে নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাতদল মন্দিরে ঢুকে বজরংবলীর মূর্তির মাথা ভেঙে দিয়ে চল যায়। পাশাপাশি মন্দিরের আরতির মাইক সেটও ভাঙচুর করা হয়। আজ বুধবার সকালে মন্দিরের পুরোহিত ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি প্রথম লক্ষ্য করেন। তারপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
আরও পড়ুনঃ ২০৩০-এর মধ্যে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান! ৩৫ বিলিয়ন ডলার ভারতে বিনিয়োগের ঘোষণা অ্যামাজনের
ঘটনার পর আজ সকালে এক্সহ্যান্ডেলে পোস্ট করে শুভেন্দু বলেন “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলায় হিন্দুদের আস্থা ও বিশ্বাসের উপর প্রতিনিয়ত আক্রমণ চলছে। কুলপি থেকে কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার সর্বত্র মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তিনি আরও বলেন “হিন্দুদের আরাধ্য দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুর করা হচ্ছে। কাকদ্বীপ থেকে মন্দির বাজার সর্বত্র এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খোদ মমতা পুলিশ মা কালীকে প্রিজন ভ্যান-এ তুলছে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে এ দৃশ্য ও রাজ্যবাসী দেখেছে।” তাই অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মমতা পুলিশ জেহাদিদের গ্রেফতার করতে পারে না। কিন্তু সনাতনীদের আন্দোলন করতে দেখলেই নির্বিচারে ধরপাকড় শুরু হয়ে যায়।” বিরোধী দলনেতার দাবি, বর্তমান সরকারের ‘তোষণনীতি’ এবং ‘দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা’ পরিস্থিতির কারণেই রাজ্যে অপরাধীরা লাগাতার ধর্মীয় স্থানে হামলা চালাতে সাহস পাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

কুলপি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয় “মন্দির ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কে বা কারা এই কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, তাই পুলিশ বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে।”একজন পুলিশ আধিকারিক বলেন, “এখনই কিছু নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য, স্থানীয় বিবাদ, অসামাজিক উপাদান সবই তদন্তের আওতায়।”
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে উদ্বেগ! বায়ু দূষণে দিল্লিকেও ছাপিয়ে গেল কলকাতা
মন্দিরের দেখভাল করেন এমন এক বৃদ্ধ পুরোহিত বলেন “এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। রাতে কীভাবে এরা এল, কেউ বুঝতেই পারিনি। অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এটি সম্পূর্ণ নৃশংস কাজ এবং প্রশাসনকে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। কিছু মানুষ আবার রাজনৈতিক দোষারোপে বিরক্ত তাঁদের মতে, “ঘটনার পুরো তদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক ফায়দা তোলা উচিত নয়।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি মন্তব্য তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে যে রাজ্যে হিন্দু ধর্মীয় স্থানে হামলার ঘটনা বাড়ছে। অপরদিকে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বলছে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক রং চড়াচ্ছে।

Bajrangbali beheaded in a fundamentalist attack in Kulpi
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যে রাজনৈতিক সুর আরও চড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।









