সৌমেন মুখার্জ্জী, বাঁকুড়া:
‘যদি হারাই কোনওদিন কালের স্রোতে…..
আমাদেরই গান পারবে দেখো…
আমাদের মিলিয়ে দিতে
যদি চলে যাই আসব ফিরে
একদিন প্রাণেরই টানে…..
বাসব ভালো রাখব ভরে
এই জীবন হাসি গানে
তাই মনে হয় আজকে বুঝি
নেমে এল স্বর্গ এখানে….’
যে গান ছোটবেলা ফিরিয়ে দেয় আজও। যে গান ভাঙনের পর, বিবাদের পর, সংঘাতের পর, কান্নার পর মিলনের গান। বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের ‘তুফান’ ছবির ‘বাসব ভাল, রাখব ভরে এই জীবন হাসি গানে’ বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মাইকে বাজবেই। যে গানে কোনও ভেদাভেদ নেই। রিক্সাওয়ালাদের পুজো, সেলনের পুজো বা বড় কারখানার পুজো সবেতেই এই গান সবার সবসময় প্রিয়। এমনকি ‘তুফান’ ছবির এই গানের দৃশ্যায়নও বিশ্বকর্মা পুজোকে ঘিরেই।
পরিচালক বীরেশ চট্টোপাধ্যায়কে প্রযোজক এসে বলেন হিন্দি ছবি ‘অমর, আকবর,অ্যান্টনি’র মতো বাংলা ছবি বানাতে। যাতে থাকবে ‘ইয়াদো কি বরাত’ ছবির আইডিয়াও। তৈরি হয় ‘তুফান’।
আরও পড়ুনঃ উল্টো পথে হাঁটল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়! আজ বিশ্বকর্মা পুজোর দিন থাকছে না ছুটি
সততার পথে চলা মানুষের সুখের সংসার ভেঙে যায় ভিলেনের হিংসার কারণে। সমগ্র সংসার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। বাবা-মা দুদিকে হারিয়ে যায়। ছোটো ছোটো তিন ছেলে তিন দিকে হারিয়ে যায়। নতুন করে ভাগ্য তৈরি হয় তাঁদের। তিন ধর্মের মানুষের কাছে বড় হয়ে ওঠে তিন ভাই। হিন্দু, মুসলিম আর খ্রীষ্টান তিন ধর্মের গল্পে সেকুলার ছবি ‘তুফান’ সুপারহিট করে। একেবারেই সেই ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ ছবির আদলে প্লট।
চিরঞ্জিত, তাপস পাল ও অভিষেক চট্টোপাধ্যায় হয়েছিলেন তিন ভাই। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ইন্দ্রাণী দত্ত, নয়না দাস তিন নতুন যুগের অভিনেত্রীকে নেন বীরেশ চট্টোপাধ্যায়।
স্বপন চক্রবর্তীর কথায় সুরে লতা মঙ্গেশকর থেকে আশা ভোঁসলের গান ছিল এই ছবিতে। সব কটি গান সুপারহিট। অথচ স্বপন চক্রবর্তী সে ভাবে স্বীকৃতি পেলেন না।
আরও পড়ুনঃ ফোনেই ৭৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা ট্রাম্পের, সংঘাত মেটানোর চেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্টের?
তবে ‘তুফান’ ছবি মানেই ‘বাসব ভাল রাখব ভরে’ গান। এই গানটি ছবির শুরুতে ও শেষে দু’বার ব্যবহৃত হয়। প্রথম যখন ছেলেরা ছোট তখন বাবা-মা দিলীপ রায় ও শকুন্তলা বড়ুয়া গাইছেন। কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, হৈমন্তী শুক্লা ও শক্তি ঠাকুর গেয়েছিলেন।
তবে শেষের গানটি সবথেকে হিট। যে গান শুনে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে তিন ভাইয়ের। তাপস পালের লিপে এই গান গেয়েছিলেন অমিত কুমার। আর সঙ্গে শক্তি ঠাকুর। এই গান দিয়েই তাপস, চিরঞ্জিত আর অভিষেক নিজেদের ফিরে পায়। মা-বাবাকে ফিরে পায়।
কত দশক পেরিয়ে গিয়েছে তবু বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আজও এই গান। সেই রেশ, সেই আবেগ। এই গান মানেই উৎসবের সূচনা। আর কী বাংলা ছবিতে এমন একসূত্রে বেঁধে থাকার গান হবে?







