বিশেষ জাতীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর অবিভক্ত ভারতের করাচিতে জন্ম নেওয়া ভারতীয় রাজনীতির স্তম্ভ, প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি আজ পা দিলেন তাঁর ১০০ তম বর্ষে (৯৯তম জন্মদিন অতিক্রম করে শততম বর্ষের সূচনা)। এই ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ‘ভারতরত্ন’ আদবানিকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই বিশেষ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নানা সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘২০২৯ সালেই পতন ঘটবে মোদী সরকারের’; কোচিতে হুংকার অভিজিৎ দীপকের
১. প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্মৃতিচারণ ও নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা
-
ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিকথা: জন্মদিনের বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকায় একটি বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি আদবানির সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বিজেপির মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে তাঁর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পাশাপাশি আদবানির শিল্প, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের প্রতি অনুরাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “৮ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। শ্রদ্ধেয় লালকৃষ্ণ আদবানিজি আজ ১০০ বছরে পা দিলেন। এই বিশেষ ক্ষণে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের প্রার্থনা করি।”
-
রাজনাথ সিংয়ের বার্তা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় আদবানিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন যে, তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে ‘নেতৃত্বের একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন’। পার্টিকে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে আসার পেছনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বর্ষীয়ান এই নেতার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রল্লাদ যোশী সহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লালকৃষ্ণ আদবানিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন।
২. বিজেপি সদর দপ্তরে নানা আয়োজন ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী
লালকৃষ্ণ আদবানির শততম বর্ষে পদার্পণ উদযাপন করতে নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে:
-
হোম ও যজ্ঞ: দলের পক্ষ থেকে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ পুজো ও হোম-যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে আদবানির কন্যা প্রতিভা আদবানি উপস্থিত থাকেন।
-
আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র: আদবানির দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর, মতাদর্শ এবং ত্যাগ নিয়ে বিজেপি হেডকোয়ার্টারে এক বিশেষ আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি তাঁর জীবনের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র (Documentary) প্রদর্শিত হবে।
আরও পড়ুনঃ ভাইফোঁটায় বৃষ্টির চোখরাঙানি! আগামিকাল সোমবার থেকে তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস কলকাতায়
৩. করাচি থেকে দিল্লির মসনদ: এক নজরকাড়া রাজনৈতিক সফর
-
প্রাথমিক জীবন ও দেশভাগ: ১৯২৭ সালে তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের করাচির একটি সিন্ধি হিন্দু লোহানা পরিবারে জন্ম নেন আদবানি। সেন্ট প্যাট্রিক্স স্কুল এবং হায়দরাবাদের (সিন্ধ) ডিজি ন্যাশনাল কলেজে শিক্ষাগ্রহণের পর ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবার সহ তিনি মুম্বইতে চলে আসেন।
-
পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা: মুম্বইয়ে আইন পাশ করে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও, ১৯৪১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয় জনসংঘে যোগ দেন।
-
বিজেপি প্রতিষ্ঠা ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা: ১৯৮০ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা নেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে রাম রথযাত্রার মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই বর্ষীয়ান জননেতা।


