spot_img
Tuesday, 17 March, 2026
17 March
spot_img
HomeকলকাতাBhawanipore Assembly: ভবানীপুরের মেয়ে VS পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র; হাইভোল্টেজ ভবানীপুর

Bhawanipore Assembly: ভবানীপুরের মেয়ে VS পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র; হাইভোল্টেজ ভবানীপুর

ভবানীপুরের এবারের লড়াই কেমন হতে পারে? তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

একজন ভবানীপুরের মেয়ে। অন্যজন পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। পাঁচ বছর আগে প্রথমজন গিয়েছিলেন দ্বিতীয়জনের গড়ে। একুশের নির্বাচনে মেগা ডুয়েল দেখেছিল নন্দীগ্রাম। পাঁচ বছর পর দ্বিতীয়জন প্রথমজনের ঘরে এসে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। প্রথমজন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। ফলে ছাব্বিশের নির্বাচনে মেগা ডুয়েল দেখতে চলেছে ভবানীপুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠল ভবানীপুর।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে তৃণমূল ছেড়ে একাধিক নেতা বিজেপিতে যোগ দেন। তার মধ্যে অন্যতম শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই নিয়ে যখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভবানীপুর আসন ছেড়ে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইসময় তিনি বলেছিলেন, ভবানীপুর যদি তাঁর বড় বোন হয়, তবে নন্দীগ্রাম মেজো বোন।

আরও পড়ুনঃ মানিকতলায় শ্রেয়া কনফার্ম! সওয়া ৩টের সময়ে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা, পরম চমক বিকেলে

পাঁচ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। মমতা তৃণমূলের প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী করে শুভেন্দুকে। আবার সিপিএম প্রার্থী করে তরুণ তুর্কি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তবে মমতা ও শুভেন্দুর ডুয়েল নিয়েই আগ্রহ ছিল সবার। শেষপর্যন্ত সেই লড়াইয়ে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারান বিজেপির শুভেন্দু। তিনি পান ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭৬৪ ভোট। আর মমতা ১ লক্ষ ৮ হাজার ৮০৮ ভোট পান। এই দুই হেভিওয়েটের লড়াইয়ের মাঝে মীনাক্ষী পান ৬ হাজার ২৬৭ ভোট। তবে ভোটের ফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এমনকি, আদালতে মামলাও করেন মমতা। গত ৫ বছরে অবশ্য শুভেন্দু অধিকারী বারবার তাঁর নন্দীগ্রামের জয় নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে খোঁচা দিয়েছেন।

পাঁচ বছর পর জায়গা বদল হল। কিন্তু, দুই দলের দুই হেভিওয়েটকে এবারও পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যাবে। পাঁচ বছর আগে মমতা গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। আর এবার শুভেন্দু এসেছেন ভবানীপুরে। তবে ভবানীপুরের পাশাপাশি শুভেন্দু নন্দীগ্রামেও প্রার্থী হচ্ছেন।

ভবানীপুরের এবারের লড়াই কেমন হতে পারে? তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের মতো করে অঙ্ক কষছে। মমতা ভবানীপুরকে তাঁর বড় বোন বলেন। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই ভবানীপুর থেকেই উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি। সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের থেকে ৫৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা পেয়েছিলেন ৬৫ হাজার ৫২০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সি ৪০ হাজার ২১৯ ভোট পান। সেইসময় বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রকুমার বোস পেয়েছিলেন ২৬ হাজারের সামান্য বেশি ভোট। মমতা জিতেছিলেন ২৫ হাজারের বেশি ভোট।

আরও পড়ুনঃ পার্টি অফিস ভাঙচুর! কর্মীদের কাছেই প্রশ্নের মুখে সিপিএম

একুশের নির্বাচনে মমতা এই কেন্দ্রে প্রার্থী না হওয়ায় তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি পান ৭৩ হাজার ৫০৫ ভোট। পাঁচ বছর আগে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। সাড়ে ২৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন শোভনদেব।

পরে ভবানীপুর আসনটি শোভনদেব ছেড়ে দেন, যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর ভবানীপুরে উপনির্বাচনের ফল বেরোয়। উপনির্বাচনে মমতা পান ৮৫ হাজার ২৬৩ ভোট। বিজেপির প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়াল পান ২৬ হাজার ৪২৮ ভোট। ৫৮ হাজার ৮৩৫ ভোটে জেতেন মমতা।

এবার ভবানীপুরে মেগা ডুয়েল নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। গত কয়েকমাস ধরে শুভেন্দু একাধিকবার বলেছেন, ভবানীপুরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবেন। আবার কিছুদিন আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভবানীপুরে প্রায় ৪৮ হাজার নাম বাদ পড়ার পর মমতা বলেছিলেন, যতই নাম বাদ দেওয়া হোক, একটা ভোটে হলেও তিনিই জিতবেন। এই আবহে ছাব্বিশের নির্বাচনে সবার নজর এখন ভবানীপুরে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে নির্বাচন। ভোটের ফল কী হবে, তা জানতে ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন