সপ্তাহের শুরুতেই কি আসতে পারে দুঃসংবাদ ? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মাঝেই ফের বাড়তে পারে জ্বালানির দাম। দ্রুত দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী ।
পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বেড়েই চলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার বড় প্রভাব পড়েছে ভারতে। আগেভাগেই দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বার বার দেশবাসীকে অযথা গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। সেই অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রবিবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পেট্রোলিয়াম, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সহজলভ্য়টা কী অবস্থা তা খতিয়ে দেখা হয়।
আরও পড়ুনঃ LPG ডেলিভারি বয় বেশি টাকা চাইছে? সিলিন্ডার বুক করার পরেও তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা! ফোন করুন নিচের নম্বরে
মূল বিষয়বস্তু:
সরবরাহ নিশ্চিত করতেই বৈঠক : যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও যাতে দেশে অত্যাবশ্যকীয় সম্পদের সরবরাহ বজায় থাকে, তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকল্প পরিকল্পনা : আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকরা প্রধানমন্ত্রীকে সবিস্তারে জানান।
বর্তমান মজুতের কী পরিস্থিতি: বর্তমান স্টকের পরিমাণ ও লজিস্টিক পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
পেট্রোল ও ডিজেলের দর :
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের বড় শহরগুলিতে জ্বালানি তেলের দাম মোটের ওপর স্থিতিশীল। মুম্বইতে বর্তমানে পেট্রোল প্রতি লিটার ১০৩ টাকা এবং ডিজেল ৯০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্যাস সংকট বাড়ছে :
সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি (LPG)। ভারত তার গ্যাস আমদানির জন্য মূলত পারস্য উপসাগরের ওপর নির্ভরশীল।
হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা: বিশ্বের প্রায় ২০% অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ইরান এই নৌপথ অবরোধ করায় একাধিক গ্যাস ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে।
সরবরাহে ঘাটতি: জাহাজে পণ্য আসতে দেরি হওয়ায় দেশে এলপিজি-র ব্যবহার ও সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
জনজীবনে কী প্রভাব পড়েছে
বর্তমানে এই সংকটের প্রভাবে একাধিক শহরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে
দীর্ঘ লাইন: সিএনজি (CNG) স্টেশন এবং এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের বাইরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে সিএনজি চালিত অটো চালকদের রিফিল করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা : ঘাটতির আশঙ্কায় অনেক জায়গায় মানুষ সিলিন্ডার মজুত করতে শুরু করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের সামনে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে।
রেস্তোরাঁ বন্ধের উপক্রম: বাণিজ্যিক গ্যাসে বিধিনিষেধ আরোপ করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক ছোট-বড় রেস্তোরাঁ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ইতিমধ্যেই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার
সম্প্রতি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসাবে সরকার বিভিন্ন রাজ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG)-র বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে । পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলিকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাজ্যগুলিকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকদের জন্যই নতুন পিএনজি (PNG) কানেকশনের প্রক্রিয়া সহজতর করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, এলপিজি মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সরকার।



