শুক্রের সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তালিবান প্রতিরক্ষামন্ত্রক দাবি করেছে তারা একটি ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের একটি পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু সূত্রে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুযায়ী, এই হামলায় স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অনেকেই নিহত হয়েছেন। এরপরই ইসলামাবাদে প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের মার্কিন যুদ্ধবিমান F-16 ধ্বংস আফগান হামলায়! দাবি কাবুলের
শহরে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে এবং জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যেচলতি ‘ওপেন ওয়ার’-এর মধ্যে একটি আলাদা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ সকালে একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের বিমানবাহিনী দুপুর সাড়ে এগারোটা নাগাদ পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন-ভিত্তিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
এর মধ্যে ইসলামাবাদের কাছে ফয়জাবাদের নিকটবর্তী সামরিক ক্যাম্প, নওশেরার আর্মি ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদের মিলিটারি কলোনি এবং অ্যাবোটাবাদের সামরিক এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবির মধ্যে কোনো পারমাণবিক কেন্দ্রের উল্লেখ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট ও অপ্রমাণিত সূত্রে বলা হচ্ছে যে, ইসলামাবাদের কোনো একটি পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চলল মিসাইল-গোলাবর্ষণ, ডুরান্ড লাইনে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামল পাকিস্তান
পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও এই নির্দিষ্ট পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার দাবি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন যে, আবোটাবাদ, সোয়াবি এবং নওশেরায় ছোট ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সেগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি এই চেষ্টাকে আফগান তালিবানের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন যে, এটি তাদের সন্ত্রাসী যোগসূত্র প্রকাশ করছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণা করে বলেছেন যে, ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এই ঘটনা গত কয়েকদিনের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা। গত রাতে পাকিস্তান বিমানবাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও অন্যান্য এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যাতে তালিবানের সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি। পাকিস্তান বলছে, এতে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত।
অন্যদিকে তালেবান প্রত্যুত্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে। পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত বলে পরিচিত। ইসলামাবাদের কাছে পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের (পিএইসি) কিছু স্থাপনা রয়েছে, কিন্তু এগুলোতে ড্রোন হামলার সম্ভাবনা খুবই কম কারণ সেখানে উন্নত অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম রয়েছে।
যদি এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হবে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে রেডিয়েশন লিকের আশঙ্কা থাকে, যা পুরো অঞ্চলকে বিপন্ন করতে পারে। ইসলামাবাদে রাস্তা বন্ধ, সেনা মোতায়েন এবং জরুরি অবস্থা জারির খবর এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে চীন, রাশিয়া ও ইরান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে।









