সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিজেপির সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছিল! সিপিএম নেতার এই দাবিকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। দলীয় কাজে বুধবার এই সিপিএম নেতা কোচবিহারে এসেছিলেন। সেখানেই তিনি দাবি করেন, বিজেপির সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল।
তাঁর সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও পর্যবেক্ষক আলোচনায় বসতে চান। একবার নয়, তিনবার ফোন করা হয়েছিল। একবার হোয়াটসঅ্যাপ কলে এবং দুবার ভয়েস কল করা হয়েছিল। কলার আইডিতে যা দিল্লির নম্বর বলে দেখাচ্ছিল বলে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি। যদিও সিপিএম নেতার এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির কোচবিহার জেলা সম্পাদক বিরাজ বোস বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসব বলে এরা বাজার গরম করতে চাইছে। বিজেপির তেমন দিন আসেনি যে সিপিএম থেকে প্রার্থী ধার নিতে হবে।”
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সম্ভবনা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিধানসভায় কোন রাজনৈতিক দলের কে প্রার্থী হবে, তা নিয়ে ঝাড়াই বাছাই চলছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সিপিএম নেতা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করে বসেন যে, বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছে।
এদিন তিনি বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে 3 বার ফোন করা হয়েছে। একজন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বসবার জন্য। আগামী যে বিধানসভা নির্বাচন আসছে সেই বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে তাদের সঙ্গে বসবার জন্য। স্বাভাবিকভাবে আমি তাদের বলি, আমি যে মতাদর্শে বিশ্বাসি তার সঙ্গে বিজেপির মতাদর্শের মিল নেই। এরপরই তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি যদি একটু সময় দেন৷ খুব অস্পষ্ট করে বলতে গেলে, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ইত্যাদির বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় তো একটু সৌজন্যবোধ তো থাকে৷ সেটাকে মাথায় রেখেই আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি। কারণ, আমার পক্ষে সিপিএম ছাড়া সম্ভব নয়। আমি এই দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, “আমি শুনলাম বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, গোটাটাই একটা স্পেকুলেশন। যদি স্পেকুলেশনই হবে তাহলে রাজনীতির প্রতি নূন্যতম সৌজন্যবোধের কারণে সেই নম্বরগুলো প্রকাশ্যে আনিনি। তবে উনি যদি দ্বিতীয়বার চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে সেই দুটি নম্বর প্রকাশ করে দিতে হবে।”









