জামালপুরে আশাকর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিজেপির জামালপুর ১ মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুশান্ত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে হালাড়া মোড় থেকে তাকে আটক করে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সকাল সকাল ফোন করে ডাকল বন্ধু; কালিয়াচকে যা ঘটল শিউরে উঠছে বাংলা
ঘটনার বিবরণ:
- অভিযোগ: ১৮ মে জামালপুর থানার হিরণ্যগ্রামে আশাকর্মী বাড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখার সময় জমি দখলের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। সুশান্ত মণ্ডলসহ দলবল রড, শাবল, কাটারি ও লাঠি নিয়ে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
- আক্রান্ত আশাকর্মী জানান, হাত-পা ধরেও রেহাই পাননি, স্বামী বাইরে থাকায় তিনি ও তার মেয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য:
- বসন্ত পাঁজা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আশাকর্মী তাদের যাতায়াতের রাস্তা বেড়াদিয়ে রেখেছিলেন, যা ভেঙে দেন তারা।
- সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দেবিকা দেবনাথ দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মেহেমুদ খানের জেলের কারণে সুশান্তকে ফাঁসানো হচ্ছে।
- প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, “আইনের শাসন চলছে, অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ধৃতের অতীত:
- ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সুশান্ত ও তার স্ত্রী সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন।
- নির্বাচন আগে নিজের বাড়িতে বোমা মারার নাটক সাজিয়ে তৃণমূলের নামে অভিযোগ করলেও পুলিশ তদন্তে তিনি নিজেই ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
- বিদ্যুৎ চুরির মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং পদ পেয়ে থাকেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার গার্লফ্রেন্ড চাই, বন্ধুরা খিল্লি করে’; ট্রেনের ছাদে সটান, হইচই শিয়ালদহে
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
- জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদার বলেন, “ক্রিমিনাল মেন্টালিটির লোকেদের দলে নেওয়া ভুল ছিল।”
- বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, “দলের নামে অন্যায় করা যাবে না, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
এই ঘটনার পর জামালপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তদন্ত চলছে।


