ভোটের মুখে রক্তাক্ত গড়িয়া! পার্লারের ভেতর বীভৎস জোড়া মৃত্যু। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার তেঁতুলতলা এলাকায় একটি বিউটি পার্লারের ভেতর এক মহিলাকে কুপিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার নাম রুপবানী দাস (৫০)। পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে এক ‘কাশ্মীরি’ যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েনের তত্ত্ব।
আরও পড়ুনঃ ‘থ্রিসাম অপরাধ নয়’; যৌন-অভিরুচি নিয়ে সরব তসলিমা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেঁতুলতলা এলাকায় রুপবানী দেবীর প্রায় ১৫ বছরের পুরনো একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। আজ দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ তাঁর স্বামী অনুপ কুমার দাস তাঁকে পার্লারের সামনে নামিয়ে দিয়ে যান। এর ঠিক ৪০ মিনিট পর, ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পার্লার থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়, ভেতরে মারামারি চলছে।
খবর পেয়েই অনুপবাবু তাঁর ছেলে ও জামাইবাবুকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন। পার্লারের ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। রুপবানী দেবী এবং এক যুবক দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে সব শেষ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক কাশ্মীরি যুবকের সঙ্গে রুপবানী দাসের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই যুবকই এদিন পার্লারে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহিলাকে আক্রমণ করে। রুপবানী দেবীকে নিশ্চিতভাবে খুন করার পর অভিযুক্ত যুবক ওই একই অস্ত্র দিয়ে নিজের গলায় কোপ বসিয়ে আত্মঘাতী হয়। পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কোনো বিশেষ দাবি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই চরম পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েদের পালন
ঘটনার খবর পেয়েই গড়িয়ার ওই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওই যুবকের আসল পরিচয় কী এবং কেন সে এই পথ বেছে নিল, তা জানতে পার্লারের কর্মী ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।



