বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বগুড়া সদর উপজেলা ও পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ভোটের ফলাফলের জন্য প্রতীক্ষা করছে ভারত, জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এতে বিজয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট যা এই আসনের ইতিহাসে একটি রেকর্ডসম মার্জিন।এই আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ছিল।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাতেই ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। প্রথম থেকেই তারেক রহমানের এগিয়ে থাকার খবর আসতে থাকে। প্রাথমিক ফলাফলে ২৭টি কেন্দ্রে তিনি দ্বিগুণেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পরে ৪১টি, ১১৬টি কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে ব্যবধান আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত করে রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে তারেক রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
ভোটার টার্নআউট ছিল উল্লেখযোগ্য প্রায় ৭১ শতাংশের কাছাকাছি। বগুড়ার মানুষ এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন, যা অনেকের কাছে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নতুন শুরুর প্রতীক।তারেক রহমানের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি তার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ। প্রায় ১৭-১৮ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ফিরে এসে তিনি বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় হন এবং এই নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেন। বগুড়া তার পৈতৃক এলাকা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হিসেবে এখানে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। তারেক রহমান ছাড়াও তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং সেখানেও বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে। দুই আসন থেকে জয়ী হওয়ায় তিনি একটি আসন ছেড়ে দিয়ে অন্যটি বেছে নেবেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন, দাবি হাসিনার
এই নির্বাচন ছিল দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়। বিএনপি এবার প্রথমবারের মতো তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুরোদমে নির্বাচনে অংশ নেয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, কিন্তু বগুড়া-৬-এ তারেকের জয় বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, বগুড়ার মানুষ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে পরিবর্তন চেয়েছে—চাকরি, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।










