হাতে আর কয়েক ঘণ্টা। তার পরেই বিস্ফোরণ ঘটবে! এজলাসে বসে এমনই উড়ো মেল পেলেন বিচারক। মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল। কলকাতা থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চুঁচুড়া থেকে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, সর্বত্র উড়ো মেল ঘিরে আতঙ্ক শুরু হয়। সর্বত্র পুলিশকুকুর নিয়ে তল্লাশি তলছে। ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে আদালত চত্বর। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিচারকদের বড় অংশই এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কাজে ব্যস্ত। তার সঙ্গে এই উড়ো মেলের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটাও দেখার।
আরও পড়ুনঃ বেনিয়াপুকুরে ভয়ঙ্কর কাণ্ড! তৃণমূল আমলে দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত; শহরে ফের শ্যুটআউট
পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারকের কাছে একটি মেল আসে। তাতে বলা হয়, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে। ১টা নাগাদ উড়িয়ে দেওয়া হবে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কুকুর দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত হয়েছেন। আইনজীবী শেখর কুন্ডু জানান, একটি জামিনের আবেদনের শুনানি চলছিস তখনই মুখ্য বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ একটি মেলের কথা শোনান। তার পরেই শোরগোল শুরু হয়।
কিছু ক্ষণের মধ্য়ে কলকাতার নগর ও দায়রা আদালতেও একই দৃশ্য দেখা যায়। বোমাতঙ্কে কোর্ট রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান আইনজীবীরা। দুর্গাপুর আদালতেও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন সর্বত্রই তল্লাশি চলছে। তবে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ বিরল মাদক MDMA; মালদহে ‘সেক্স ড্রাগস’ সিন্ডিকেট! নীল নেশার মরণফাঁদ রুখল মালদা পুলিশ
একই ভাবে হুমকি-মেল ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায় হুগলির চুঁচুড়া আদালতে। জেলা জজের কাছে মেল যায়। তাতে লেখা, খানিক ক্ষণ বাদে আরডিএক্স বিস্ফোরণ ঘটবে! সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। সময় নষ্ট না-করে আদালতে ছোটে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ। আদালতে উপস্থিত কারও মধ্যে যাতে আতঙ্ক না-ছড়ায়, সেটাও দেখা হচ্ছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। সেখানেও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলেই ধারণা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সর্বত্র তল্লাশি চলছে। কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছেন, খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে।









