বীরভূমে অনেকগুলি ব্রহ্মদৈত্যের মেলা হয় পয়লা ও দোসরা মাঘ।
ব্রাহ্মণসন্তানের অপমৃত্যু থেকে ব্রহ্মচারী বা ব্রহ্মদৈত্য অপদেবতার কথা সকলেই জানেন। তবে এই পুজোর উদ্ভব সম্পর্কে কোনও ঘটনা আমাদের আত্মবিস্মৃত ইতিহাসবিমুখ জাতি মনে রাখেনি। ‘ব্রহ্মডাঙা’ শব্দটির মতো এখন আর এই দেবতার বা মেলার ইতিহাস জানা সোজা নয়।
আরও পড়ুনঃ জীবনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা; আজ পবিত্র শবে মেরাজ
গোঁসাই এবং ধর্মঠাকুরের গুরুত্ব সাঁওতাল ও নিম্নকোটির বাঙালির মধ্যে কম নয়। অলৌকিক ঘটনা ও ভীতি থেকে এই পুজো হতে পারে। এই দেবতার কোনও মূর্তি নেই। মানতের ঘোড়া দেওয়া হয়। সুলতানপুরে দেখলাম বলির জন্য ছাগল নিয়ে আসা হয়েছে। অনেক জায়গায় হাঁসমুরগী বলি হয়,এবং দেশী মদও নিবেদন করা হয়। ব্রাহ্মণরাই পুরোহিত হয় কিন্ত পুরোহিত – দর্পণ এ এই পূজারীতি নেই।
বীরভূমের ইতিহাসকার গৌরীহর মিত্র জানিয়েছেন , খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দীর মধ্যাংশে বীরভূমে নাথ সম্প্রদায়ের বেশ প্রতিপত্তি ছিল। এই নাথ গোস্বামীদের স্মৃতিতেও এই পূজাগুলি হতে পারে। তারাপীঠের বশিষ্ঠকেও অনেকে নাথপন্থী মীননাথের পূর্বাচার্য বলে করেন।
অমলেন্দু মিত্র জানিয়েছেন, শ্রদ্ধেয় পঞ্চানন মন্ডল তাঁকে এক আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন যে, তাঁর অনুমান, বর্ধমানের ভেদিয়া সংলগ্ন পান্ডুরাজার ঢিপি এলাকায় যে সমস্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু বা সন্ন্যাসী বাস করতেন, তাঁরাই কোনও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে এদিকে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁরাই ব্রহ্মচারীরূপে পূজিত হচ্ছেন।
বীরভূমের নগুরি, অজয়পুর, পাঁড়ুই,পতন্ডা,মারকোলা, লায়েকপুর,দাঁড়কা, বড়রা প্রভৃতি প্রচুর গ্রামে এই পুজোর প্রচলন আছে।
অনেক জায়গায় মাঠে চাষ করার আগে চাষীরা এই দেবতার পুজো দেয়। ব্রহ্মচারী নাকি ধানচুরি হতে দেয় না।ব্রহ্মচারীর ভয়ে ধান কাটার সময় সাপ বা হিংস্র জন্তু আক্রমণ করতে পারে না।
সুলতানপুরের ব্রহ্মদৈত্যের অবস্থান মাঠের মাঝখানে নিম গাছের তলায়। তবে জানা যাচ্ছে বেশিরভাগ ব্রহ্মদৈত্য নিমগাছেই আশ্রয় করে অবস্থান করেন। প্রান্তিক মানুষের এই মেলা বেঁচে থাকুক। বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন থাক।









