আমহার্স্ট স্ট্রিটের শ্যামসুন্দরী কালী মন্দিরে আজ মৌনী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে উপচে পড়া ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই অমাবস্যা তিথি শুরু হয়েছে রাত ১২:০৩ মিনিটে এবং পরের দিন রাত ১:২১ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
আরও পড়ুনঃ ‘এক চাকার মোটরবাইক’! উত্তর কলকাতার হেদুয়ায় জমজমাট বিজ্ঞান মেলা
এই দিনে পিতৃপুরুষদের তর্পণ, মৌন ব্রত, গঙ্গাস্নান ও দান-ধর্মের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে অসাধারণ উৎসাহ জাগিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী মন্দিরে এসে পৌঁছেছেন, ফলে মন্দিরের সামনের সরু রাস্তা ঠাসা হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ সদস্যরা মন্দিরের সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভক্তরা মন্দিরের মূল দ্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে সন্ধ্যা ৬টার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে অনেকের পুজো দেওয়া হয়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুনঃ “ওই সবুজ টিউবটা দাও তো!” নামটা খুব সাধারণ, কিন্তু কাজটা অসাধারণ
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুবিধার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অত্যধিক ভিড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে ভক্তরা বলছেন, এই দিনে মায়ের দর্শনের জন্য এত দূর এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে এটা অসহ্য। মন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়েই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পরে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফেই খবর দেওয়া হয় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় খবর দেন।
পুলিশ এসে প্রাথমিকভাবে পুণ্যার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে না। পুলিশের সঙ্গেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এরপর পুণ্যার্থীদের রাস্তায় এক পাশে নিয়ে গিয়ে ব্যারিকেড করে রাখে পুলিশ। তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। পুলিশকে পাল্টা লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। রাস্তাতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় পুজোর জন্য আনা মিষ্টি, ধূপকাঠি, কাপড়! ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে পুণ্যার্থীদের চটিও। এক পুণ্যার্থীর অভিযোগ, “আমি হেঁটেই আসছিল, এক পুলিশকর্মী এসে আমার পা চিপে দেন। ওরাই আমাদের তাড়া করতে থাকে।” আরেক পুণ্যার্থী বলেন, “হঠাৎ করে বলল সন্ধ্যা ৬টায় মন্দির বন্ধ। আগে থেকে তো বলেনি। এত গুলো মানুষ পুজো দিতে পারলেন না। কারণও বলছে না।” পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।









