বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে গতি পাচ্ছে জোকা-এসপ্ল্যানেড (ধর্মতলা) মেট্রো প্রকল্পের কাজ। ধর্মতলায় প্রস্তাবিত মোট্রো স্টেশনের কাজের সুবিধার জন্য ঐতিহাসিক বিধানচন্দ্র রায় (বি সি রায়) মার্কেটের ৩২১টি স্টল সাত দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ীদের পুনর্নিয়োগ ও স্থানান্তরের সমস্ত ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুনঃ এবার রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন মমতা? বিদ্রোহের আবহে বড় বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
হাইকোর্টের নির্দেশ ও শর্তাবলী
মেট্রোর কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে, সে জন্য আদালত নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী জারি করেছে:
-
সাত দিনের সময়সীমা: আগামী সাত দিনের মধ্যে বি সি রায় মার্কেটের ৩২১টি স্টল ফাঁকা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে কাজ শুরু করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
-
পুনর্বাসন ও পরিকাঠামো: ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেটের স্টলগুলি কাজের স্বার্থে সাময়িকভাবে বিকল্প স্থানে সরানো হবে। পুনর্বাসন স্থানে ব্যবসায়ীদের জন্য পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দ্বায়িত্ব মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
-
ব্লু-প্রিন্ট ও লে-আউট: বিকল্প জায়গায় স্টলগুলি কীভাবে এবং কোথায় বসানো হবে, তার স্পষ্ট নকশা বা লে-আউট আগেই প্রদান করতে বলা হয়েছে।
-
পুরনো জায়গায় পুনর্বাসন: মেট্রোর স্টেশন তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ীদের আবার তাঁদের পুরনো স্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘রাস্তায় বেরোতে না পারেন আমি সে ব্যবস্থা করব’! প্রাক্তনের উদ্দেশে বর্তমান
প্রকল্পের জটিলতা ও সমাধান
ধর্মতলায় জোকা-এসপ্ল্যানেড রুটের শেষ স্টেশনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বি সি রায় মার্কেট (ময়দান মার্কেট)। সেনাবাহিনীর অধীনস্থ জমিতে মার্কেটটি অবস্থিত হওয়ায় এবং প্রাথমিকভাবে সেনার তরফে অনুমতি না মেলায় এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মেট্রো চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে কাজের সুবিধার্থে কেএমআরসিএল (KMRCL)-এর তরফে একটি বিকল্প পরিকল্পনা আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী: ১. ময়দান মার্কেটকে যথাস্থানে রেখে তার দু’পাশে অস্থায়ী পাঁচিল তুলে ঘেরা হবে। ২. সেই ঘেরা অংশের মাঝেই তৈরি করা হবে ভূগর্ভস্থ স্টেশন। ৩. স্টেশনের মূল কাজ শেষ হয়ে গেলে অস্থায়ী পাঁচিলটি ভেঙে ফেলা হবে এবং মার্কেটটিকে পূর্বের অবস্থায় ফেরানো হবে।
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটল এবং জোকা-ধর্মতলা মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোনোর পথ পরিষ্কার হলো।


