আজ শুরু হচ্ছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ফর্ম বিলির কাজ। জেলায় জেলায় বিশেষ শিবির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। শিবিরের মাধ্যমে যুবসাথী ও ক্ষেতমজুরদের ভাতা সংক্রান্ত আবেদনপত্র বিলি ও জমা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর নতুন আবেদনপত্রও গ্রহণ করা হবে। পুরো কর্মসূচি ‘দুয়ারে সরকার’-এর মতো করে পরিচালিত হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের প্রশাসনিক অদলবদল! রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল, দুই জেলার এসপি বদলি
আজ রবিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প করবে রাজ্য সরকার। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় ক্যাম্প হবে। সেখানে যুবসাথী, খেতমজুরদের বার্ষিক ৪ হাজার টাকা সহায়তা ও কৃষকদের সেচের জল ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জলকর মকুবের জন্য আবেদন জমা নেওয়া হবে। সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নতুন আবেদনও নেওয়া হবে। এই মর্মে বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছে রাজ্য সরকার।
অন্তর্বর্তী বাজেটে জানানো হয়েছিল আগামী ১৫ অগস্ট থেকে যুবসাথী প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালু হওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনপত্র বিলির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে সেই প্রক্রিয়া। যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না-পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অন্য দিকে, ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে চার হাজার টাকার ভাতা দেওয়ার আবেদনও নেওয়া হবে একই শিবিরে।
আরও পড়ুনঃ পুরকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি; শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১১ কোটির ঘাটতি বাজেট পেশ
শহর ও শহরতলিতে বিধানসভাভিত্তিক একটি করে শিবির আয়োজিত হবে। গ্রামীণ এলাকায় ব্লকভিত্তিক দু’টি করে শিবির বসবে এবং গ্রাম পঞ্চায়েতভিত্তিক পৃথক লাইন থাকবে। শিবির পরিচালনা নিয়ে শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে যুবসাথী ও খেতমজুর ভাতা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং আবেদনপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের প্রায় ২.৪২ কোটি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান। আবেদনের ভিত্তিতে আরও ২০.৬২ লক্ষ মহিলাকে নতুনভাবে এই প্রকল্পের আওতায় আনা আনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ শ্রেণির উপভোক্তারা মাসে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এসটি ও এসসি ভুক্ত মহিলারা মাসে ১২০০ টাকার পরিবর্তে ১৭০০ টাকা করে পাবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদনের জন্য আধার কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র, ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স ও ছবি জমা দিতে হবে। যুবসাথী প্রকল্পের জন্য এই প্রথমবার আবেদনপত্র নেওয়া হচ্ছে। নথি লাগবে আধার কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র, ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স, অ্যাডমিট কার্ডের জেরক্স এবং ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে হবে।









