কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ভাসছে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা। এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ দেখে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরতে চাইছেন অনেকেই। এমন অবস্থায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন একাংশ গাড়ির চালক। সাধারণত দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির ভাড়া যেখানে ৩ হাজার টাকার আশপাশে, সেখানে এখন পর্যটকদের থেকে দাবি করা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পেরে হোটেলে আটকে পড়ছেন অনেকেই। ক্ষোভ বাড়ছে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ ময়দানে এবার সেনা, উত্তরবঙ্গে শুরু হচ্ছে কাজ
আসানসোল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে তাবাকোশি, লামাহাট্টা হয়ে দার্জিলিং পৌঁছেছিলেন ইন্দ্রাণী চন্দ ও বরুণ চন্দ। শনিবার তাঁদের ফেরার কথা ছিল। হোটেল থেকে চেক আউট করে শিলিগুড়ি আসার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে গিয়েই বিপাকে পড়েন। অভিযোগ, দুটি গাড়ির জন্য তাঁদের কাছ থেকে ভাড়া চাওয়া হয় মোট ২৪ হাজার টাকা।
ইন্দ্রাণী জানান, অনেক অনুরোধ করেও গাড়ির চালকেরা ভাড়া কমাননি। বাধ্য হয়ে তাঁদের বুক করা ট্রেনের টিকিট বাতিল করতে হয়েছে। শেষমেশ আবার হোটেলেই ফিরে গেছেন। বরুণ বলেন, ‘আমরা কোনওমতে দুটো ঘরে সবাই মিলে রয়েছি। এত টাকা গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নেই।’
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ১৭, নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
আরেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাহাড়ে বিপর্যয়। হোটেল পাশে দাঁড়াচ্ছে, এই সময়ে পাশে থাকা উচিত ছিল গাড়ি চালকদের। কিন্তু একাংশ লুটেপুটে খেতে নেমে পড়েছেন। যেখানে ৩ হাজার টাকার ভাড়া, সেখানে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এটা চরম অমানবিক।’
অনেক ট্রেন বাতিল হয়েছে। পর্যটকদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, বিশেষ নাইট সার্ভিস চালু করেছে এনবিএসটিসি। এখন প্রশ্ন উঠছে, পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার বা নিরাপদে শিলিগুড়ি এবং পরে গন্তব্যে ফেরানোর জন্য প্রশাসন আর কী পদক্ষেপ করে। পর্যটকদের অনেকেই বলছেন, একমাত্র পুলিশের হস্তক্ষেপেই এমন নোংরামি বন্ধ হতে পারে।









